টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অবশেষে নিজেদের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল শবরীমালা মন্দির কর্তৃপক্ষ। সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের ছাড়পত্র দিয়ে ঐতিহাসক রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এরপর এই রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য কয়েক ডজন আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। এদিন তার শুনানি ছিল। কেরালা সরকার পুনর্বিবেচনার আবদনের বিরোধিতা করে। শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেও মন্দিরে মহিলাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। অবশেষে শবরীমালা বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দিল গর্ভগৃহে সব বয়সের মহিলাদের ঢুকতে দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-এর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পুনর্বিবেচনার আবদনের শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। ২২ জানুয়ারি এনিয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এদিন শুনানির সময় কেরালা সরকারের তরফে আইনজীবী বলেন, এভাবে পুনর্বিবেচনার আবদনের মধ্য দিয়ে মামলাটি শুরু হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট ২৮ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেয়, সব বয়সের মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। এরপর এই নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। সুপ্রিম রায় সত্ত্বেও হাজার চেষ্টা করেও বহুদিন মহিলারা সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। ধর্মের তথাকথিত `রক্ষকরা’ প্রবল প্রতিরোধ তৈরি করেন। শেষপর্যন্ত নতুন বছরের শুরুতে ২ জন জন মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করে ইতিহাস তৈরি করেন। এরপর পুরোহিতের মন্দির শুদ্ধিকরণ নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রায় সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও কেন মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে? মহিলারা কোথায় যাবেন, কীভাবে ধর্মাচারণ করবেন, তা ঠিক করে দেবেন ধর্মের তথাকথিত রক্ষকরা? দেরিতে হলেও কি মন্দির কর্তৃপক্ষের বোধদয় হল? দেখা যাক।