টিডিএন বাংলা ডেস্ক : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অভাগীর স্বর্গ’র কাহিনী যেন ফিরে এল ওড়িশাতে। শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে শ্মশানে শব দাহ করার অনুমতি দেয়া হল না।

দলিত, তাই মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে রাজি হল না প্রতিবেশীরা। মা হারানোর শোকে কাতর ১৭ বছরের সরোজকে তাই বাধ্য হয়ে একাই চোখের জল মুছতে মুছতে শেষকৃত্যের সব কাজ করতে হল। একজন প্রতিবেশী’ও জীবনের সব থেকে বড় শোকের মুহূর্তে তার পাশে এসে দাঁড়াল না। ওড়িশার করপাবহল গ্রামের বাসিন্দা সরোজ। সেই ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়ে ছিল। মা ও বোনের সঙ্গে মামার বাড়িতে বড় হয় সে।এমনিতেই দলিত বলে গ্রামে বিধি নিষেধের অন্ত ছিল না। তাই বলে মায়ের মৃত্যুর পর একজন প্রতিবেশীও একটু সহানুভূতিও দেখাবেনা, এমনটা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। প্রতিবেশীদের আচরণ তাকে চোখের জল মুছে চোয়াল শক্ত করে লড়তে শিখিয়েছে। সরোজের মা জানকি সিংহানিয়া (৪৫) পুকুরে জল আনতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান পুকুর ঘাটে। আঘাত লাগে মাথায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ। দুঃসময়ে কেউ পাশে এসে না দাঁড়ানোয়, সরোজ নিজেই একটি বাঁসের কাঠামো তৈরি করে তার উপর মায়ের মৃতদেহ রেখে সেটি সাইকেলের পিছনে বেঁধে নিয়ে যায়। দলিত হওয়ায় মৃতদেহ শ্মশানে দাহ করার অনুমতি মেলেনি। তাই গ্রামের পাশে এক জঙ্গলে মায়ের দেহ সমাধিস্থ করে সে।