টিডিএন বাংলা ডেস্ক: হায়দ্রাবাদে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন মুহাম্মদ মাহমুদ আলী।মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চন্দ্রশেখর রাও দায়িত্ব নেয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে ঘোষণা করা হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছে মুহাম্মদ মাহমুদ আলী। পূর্বতন মন্ত্রিসভায় মাহমুদ আলী ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনে ছিল রাজস্ব বিভাগ। এছাড়া সংখ্যালঘু ও ওয়াকফ বিভাগ ও দেখাশোনা করেন। ২০০১ সাল থেকে তেলেঙ্গানা আন্দোলনে মাহমুদ আলী চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গী। ২০১৩ সালে মাহমুদ আলী বিধানসভা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় বিধানসভার জন্য শপথ গ্রহণের দিন কেবলমাত্র মাহমুদ আলীকে শপথের জন্য ডাকা হয়। এর মধ্য দিয়ে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি মুসলিম ভোটারদের কাছে তাদের সমর্থণের প্রতিদান দিতে চাইলেন বলে মনে করা হচ্ছে। মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমীন থেকে এবার সাতজন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মিম সরকার গঠনের সামিল না হওয়ার কথা জানিয়েছে। সে কারণে মাহমুদ আলীর গুরুত্ব আরো বেশি বেড়ে গেল এ রাজ্যে।

গত বছর উপমুখ্যমন্ত্রী আর এবারের মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব ৬৬ বছরের এই মুসলিম নেতার উপর দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও। টিআরএস দল থেকেও একজন মুসলিম বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু মনে করা হচ্ছে ১৮ সদস্যের মন্ত্রিসভায় মুসলিম হিসেবে একমাত্র থাকবেন মাহমুদ আলী। একবার কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুফতি মুহাম্মদ সঈদ, বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং-এর মন্ত্রিসভায়। আর এবার দক্ষিণের এক রাজ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একজন মুসলিমের উপর অর্পণ করে চন্দ্রশেখর রাও শপথের দিনই বার্তা দিলেন রাজ্যের যে সকলকে নিয়ে চলতে হবে উন্নয়নের পথে।

উল্লেখ্য, তেলেঙ্গানায় ১৩ শতাংশ মুসলিম যাদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব বিধানসভায় অনুমোদন হয়ে ঝুল রয়েছে। কেন্দ্রের সম্মতির উপর নির্ভর করছে মুসলিম সংরক্ষন যার কারিগর ছিলেন মাহমুদ আলী। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের পর তেলেঙ্গানা একমাত্র রাজ্য যেখানে ইমাম ভাতা, মোয়াজ্জেন ভাতা চালু রয়েছে। এবার সেই ভাতা দ্বিগুণেরও বেশি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় নির্বাচনের আগে।