টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশের যেখানে সেখানে চিকিৎসকদের উপর হামলা ঘটনা ঘটছে। তবে এবার থেকে চিকিৎসকদের গায়ে হাত দিলেই হবে ১০ বছরের জেল, এমন বিল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রক একটি খসড়া বিল তৈরি করেছে। তাতে চিকিৎসক নিগ্রহে দশ বছর পর্যন্ত জেলের সুপারিশ করা হয়েছে। না হলে জরিমানা দিতে হবে দশ লক্ষ টাকা। বিলটি কীভাবে আরও নিখুঁত করা যায়, সে সম্পর্কে মানুষের মতামত জানতে চায় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তারপরই সেটি চূড়ান্ত রূপ পাবে।

উল্লেখ্য, চিকিৎসক নিগ্রহে অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে আইন তৈরি করার কথা বলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অবশ্য তার আগে থেকেই এ বিষয়ে বিল আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রক খসড়া হেলথ কেয়ার সার্ভিস পারসোনেল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল এসট্যাব্লিশমেন্ট (হিংসা ও সম্পদের ক্ষতি প্রতিরোধ), ২০১৯ প্রকাশ করেছে। চিকিৎসকদের যাতে জনরোষের জেরে শারীরিক ক্ষতি বা জীবনহানির মতো পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, তার জন্য আইন তৈরি করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে চাইছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। শীঘ্রই বিল পাস করিয়ে শাস্তি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

চলতি বছরের জুন মাসে কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের হাতে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়। মাথায় গুরুতর চোট লেগে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা, বাংলা-সহ সারা দেশজুড়ে এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে কর্মবিরতি পালন করেন ডাক্তাররা। এমনকি দিল্লির এইমস হাসপাতালের চিকিৎসকরাও কর্মবিরতির সিদ্ধান নেয়।

গত ৩১ আগস্ট অসমের জোড়হাটে এক চিকিৎসককে খুন করা হয়। মৃত চিকিৎসকের নাম দেবেন দত্ত। তিনি টিয়ক চা বাগানের চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৫ সালেই অবসর নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদে চা বাগানের দু’জন ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। এমার্জেন্সি খোলা থাকলেও, মঙ্গলবার বাকি পরিষেবা বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে অবসর নেওয়ার পরও দেবেন দত্তের মন পড়েছিল সেই টিয়কেই। তাই বিনা বেতনেই চা শ্রমিকদের চিকিৎসা করতেন। এমন একটা মানুষকে এভাবে খুন হতে হবে, তা কেউই ভাবতেই পারেননি কেউ। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা চেয়ে অ্যাসোশিয়েশন অফ সার্জেনস অফ ইন্ডিয়া প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। ভবিষ্যতে যাঁতে আর কেউ এমন ঘটনার সম্মুখীন না হন, সেই বিষয়ে জোর দেওয়ার আবেদন চিকিৎসকদের।