টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগে শ্রীঘরে গেলেন এক পুলিশ কনস্টেবল। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে হাইলাকান্দি শহরে। দুর্নীতি সংক্রান্ত এক সংবাদ পরিবেশনের বদলা নিতে ওইদিন এক ইউবি ব্যাটেলিয়নের রোষের শিকার হন সাংবাদিক রাজেশ দাস। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার হাইলাকান্দিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জেলার সাংবাদিক সহ বিভিন্ন দল, সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্ত কনস্টেবল রাজেশ শুক্লবৈদ্যকে গ্রেফতার করে ১৪ দিনের জন্য জেল হাজতে পাঠায়।

আক্রান্ত সাংবাদিক রাজেশ দাস সদর থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রবিবার রাতে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল রাজেশ শুক্লবৈদ্য রাজপথে তাকে আটকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি প্রাণনাশের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে ১০টা নাগাদ হাইলাকান্দি সদর থানা লাগোয়া হার্বাটগঞ্জ বাজারে। এদিকে কনস্টেবল শুক্লবৈদ্যের বেধড়ক মারে গুরুতর জখম সাংবাদিক রাজেশ দাসকে সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে অবগত করানো হয়েছে।

জানা যায়, রবিবার রাতে সাংবাদিক রাজেশ তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে মোটর সাইকেলে যাওয়ার সময় হাইলাকান্দি বাজারের কাছে কনস্টেবল রাজেশ শুক্লবৈদ্য তাঁর মোটর সাইকেল আটকে অহেতুক বিতর্ক বাধান। তারপর তাঁর হাতের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সেটি ভেঙে ফেলে তাঁকে মারধর করতে থাকেন। মারার সময় কনস্টেবল রাজেশকে নিয়ে কিছুদিন আগে তিনি কেন সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন এর কৈফিয়ত চান। উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে এই কনস্টেবলের দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি সংবাদ গুয়াহাটির একটি নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচার করেছিলেন রাজেশ দাস। সংবাদ পরিবেশনের বদলা নিতেই কনস্টেবল ওইদিন তাঁর উপর হামলা চালান বলে রাজেশের অভিযোগ। পুলিশ কনস্টেবলের মারে জখম রাজেশকে তাঁর সঙ্গীরা উদ্ধার করে হাইলাকান্দি থানায় নিয়ে এলে পুলিশ তাঁকে চিকিৎসা করায়।

এদিকে, ঘটনার কথা জানাজানি হতেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলথেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সোমবার হাইলাকান্দি প্রেস ক্লাবের সদস্যরা আক্রান্ত রাজেশকে সঙ্গে নিয়ে হাইলাকান্দি থানায় ছুটে গিয়ে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে মামলা দায়ের করেন। তারপর সাংবাদিকরা একযোগে হাইলাকান্দির পুলিশসুপার মহনীশ মিশ্রের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার ব্যাপারে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পুলিশসুপার এ ব্যাপারে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আহত রাজেশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, গতবছর কনস্টেবল রাজেশ শুক্লবৈদ্য এনআরসি ভেরিফিকেশনের নামে উৎকোচ নিয়েছিলেন, আর ওই দৃশ্যই সংবাদ মাধ্যমে তুলেধরেন সাংবাদিক রাজেশ দাস। এই খবরে ওই কনস্টেবলকে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়। পরে পুনারায় চাকরিতে যোগদান করেন। আর রবিবার রাতে সুযোগ পেয়েই প্রতিশোধ নিতে তিনি এই আক্রমন চালান বলে হাইলাকান্দি প্রেস ক্লাবের সদস্যদের অভিযোগ।

এদিকে এই ঘটনায় বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে। অসম বার্তাজীবী সংঘের সাধারণ সম্পাদক টুনটুনি ফুকন এই ঘটনার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করে তাঁর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। অন্যদিকে বদরপুর, করিমগঞ্জ ও লালা প্রেস ক্লাবের সদস্য সহ বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন প্রতিবাদে সরব হয়েছে।

লালা প্রেস ক্লাব সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী পুলিশকর্মীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। লালা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জেলার সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপার মহনীশ মিশ্রের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। তাছাড়া, দোষী পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করায় পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান প্রেস ক্লাবের সদস্যরা।