টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশে যে কোনও ভাবে সংখ্যালঘুদেরকে কোণঠাসা করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে একটা বিশেষ গোষ্ঠী। কিন্তু মেধাকে যে কখনও কোণঠাসা করে রাখা যায়না তা ফের আরও একবার প্রমাণ দিল জয়পুরের ১৬ বছরের কিশোর আব্দুল কাগজি। ভগবত গীতা’র‌ ওপর ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০০ জনকে হারিয়ে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নিল আব্দুল কাগজি। শুধু কাগজি নয়, প্রতিযোগিতার শীর্ষে রয়েছে আরও দুই মুসলিম ছাত্র, দ্বিতীয় শ্রেণির জাহীন নকভি ও চতুর্থ শ্রেণির জোরাবিয়া নাগরিক। বুধবার তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

রাজস্থানের জয়পুরে হরেকৃষ্ণ মিশন ও অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন যৌথভাবে বার্ষিক গীতা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। সেই প্রতিযোগিতাতেই অংশ নিয়ে ৫০০০-এরও বেশি প্রতিযোগীকে হারিয়ে সেরা নির্বাচিত হয় এই কিশোর। ছয় মাস ধরে অনুষ্ঠিত দুই পর্বের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে সে। কিশোরের এই কীর্তিতে স্বভাবতই হতবাক প্রতিযোগিতার বিচারকরা। একইসঙ্গে অবাক তার স্তুতি পাঠ এবং উচ্চারণের ক্ষমতা দেখে। গীতা পাঠের এই বছরের থিম ছিল, ‘শ্রীকৃষ্ণকে জানো’, তাতেই সেরার সেরা পুরস্কার পেয়েছে সে।

কীভাবে এই জয়পুরবাসী ৯ম শ্রেণির কিশোর গীতায় পাণ্ডিত্য অর্জন করল? প্রশ্নের উত্তরে সে জানাল, টিভিতে ‘‌লিট্‌ল কৃষ্ণ’‌ দেখতে দেখতে তাঁর প্রথম কৃষ্ণকে ভাল লাগতে শুরু করে। ছোট্ট কৃষ্ণের বুদ্ধি দেখে সে বড়ই অবাক হয়ে গিয়েছিল। আর তারপরেই ‌সে পড়ে ফেলল কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা একটি বই। আর তারপর থেকেই আধ্যাত্মিকতা নিয়ে বাবার ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বেশ কিছু লেখাপত্র পড়তে থাকে সে। প্রতিযোগিতায় জেতার পর শুক্রবার সে প্রথমবার হরেকৃষ্ণ মন্দিরে পা রাখল। সেখানে গিয়ে সে জানতে পারল, যেই শ্লোক আওড়ানো হচ্ছে ওই মন্দিরে, তা বিখ্যাত এক মুসলিম কবি রাস খানের লেখা।

আবদুল কাগজি প্রতাপনগরে ডাকিং সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্র। বাবা মুদির দোকানের মালিক আব্দুর কালিম। ছেলে আব্দুল কাগজির কীর্তিতে গর্বিত তিনি। ক্লাসের পরীক্ষা থাকায় পুরস্কার নিতে উপস্থিত থাকতে পারবে না সে। রাজ্যের মন্ত্রী প্রতাপ খাচরিয়াওয়াসের কাছ থেকে রবিবার ছেলে আব্দুল কাগজির হয়ে আব্দুর কালিম পুরস্কার গ্রহণ করবে বলে জানা গিয়েছে। ‌

স্বামী সিদ্ধি স্বরূপ দাসা জানিয়েছেন, ‘‌ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক বার্তা যে সমানভাবেই সমস্ত ধর্মে রয়েছে, সে কাজটিই এতদিন ধরে আমরা করার চেষ্টা করেছি। আর আজ কাগজি নিজে এই কাজটি সহজ করে দিল।’