টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভোটের আগে অনেকটাই স্বস্তি পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০২ গণহত্যায় গুজরাটের তৎকালীন এই মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ফের আতশ কাচের নিচে পড়তে চলেছে, তবে তা ভোটের পর জুলাই মাসে। কারণ গণহত্যায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মোদীকে যে ক্লিনচিট দিয়েছিল তাকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন জাকিয়া জাফরি। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলা নেওয়ার পর সেই মামলা শুনানি জুলাইয়ে হবে বলে ঠিক হয়েছে। আবেদনকারী জাকিয়া জাফরি নিজেই সোমবার আদালতে এই আরজি জানিয়েছিলেন। সর্বোচ্চ আদালত তাতে সায়ও দিয়েছে। এদিন বিচারপতি এ এম খানউইলকার এবং বিচারপতি অজয় রাস্তোগির বেঞ্চে জাকিয়া জাফরির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে হাজির ছিলেন কপিল সিবাল। তাঁর পেশ করা আরজি মতোই বেঞ্চ মামলাটি জুলাই মাসে শুনবে বলে মত দিয়েছে।

২০০২সালে গুজরাটে সংখ্যালঘু মুসলিম গণহত্যায় আড়ালে থেকে যাবতীয় কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ রয়েছে সেইসময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। নিখুঁত পরিকল্পনা করে একের পর এক সংখ্যালঘু নিবিড় এলাকায় গণহত্যা চালিয়েছিল গৈরিক বাহিনী। আধা সামরিক বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে ২০০২সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চালানো হয়েছিল নৃশংস আক্রমণ। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আমেদাবাদের চমনপুরা এলাকায় গুলবার্গ সোসাইটিতে আক্রমণ করা হয়। প্রথমে পাথর ছোঁড়া শুরু হয়। পরে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত হত্যা করা হয় ৩৫জনকে। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না আরও ৩১জনের। পরে স্পষ্ট হয় এঁদেরকে বাড়ি থেকে বের করে এনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের কাছে, প্রশাসনের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েও কোনও লাভ হয়নি। প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক এহসান জাফরি পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। সহায়তা তো আসেইনি, উপরন্তু তাঁকেও জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে উন্মত্ত গৈরিক বাহিনী।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮সালে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয়। সিট তার রিপোর্ট জমা দেয় ২০১২সালের মার্চ মাসে।ওই সময়ই সিট মোদীকে ক্লিনচিট দেয় যাবতীয় অভিযোগ থেকে। একইসঙ্গে মামলাটিও বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন করে। জাফরির আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, জাফরি এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট ফের শুনানি শুরু করে। আদালত ২৪জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। জাকিয়া জাফরি অভিযোগ করেন, গোধরার ট্রেন দুর্ঘটনা পরবর্তী ঘটনার অন্যতম অংশ হিসেবে গুলবার্গ সোসাইটির হত্যার ঘটনা সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। ওই বছরই মামলার রায়ে ছাড় দেওয়া হয় মোদীকেও। এরপর আইনজীবী অপর্ণা ভাটের মাধ্যমে জাকিয়া জাফরি নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিন চিট দেওয়ার বিরুদ্ধে আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট জাকিয়া জাফরির সেই আবেদনে সায় দিয়ে গণহত্যায় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মোদীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে। সেই মামলারই শুনানি এদিন পিছিয়ে গেল।