ছবি : ইন্ডিয়া টুডে

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অনেক চেষ্টা করেছেন তারা। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার মতো ইস্যুও ছিল হাতে। সেই নাগরিকত্ব বিলকে নিয়ে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টাতে ত্রুটি রাখা হয়নি। দশ কেন্দ্রে প্রার্থী না দিয়ে ভোট ময়দান আরও সাফ করে দেন আজমল। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। মাত্র তিনটি কেন্দ্রেই জয়ী হতে পেরেছে কংগ্রেস। স্বভাবতই ভোটের ফলে হতাশা কংগ্রেস শিবিরে। সেই নিরাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে হিন্দু ভোটের শূন্যতা। যে তিনটি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা, সেই জয়ের আসল কারিগর হচ্ছেন মুসলিমরা। সেই সব কেন্দ্রে বিজেপি ও জোট প্রার্থীদের লড়াইয়ে রেখেছেন হিন্দু ভোটাররা। ভোটের ফলে বিজেপি কার্যালয়ে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ, তখন কংগ্রেসের কার্যালয় ম্রিয়মাণ। একইভাবে হতাশা সরকারের শরিক দল, আঞ্চলিকতাবাদী অগপ শিবিরেও। ১৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি তাদের ছেড়ে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সেই তিনটের মধ্যে একটিতেও জয়ী হতে পারেনি অগপ প্রার্থীরা। অথচ কলিয়াবর ও বরপেটায় জয়ের সম্ভাবনা ছিল একেবারে শেষ অবধি। ধুবড়িতে অবশ্য তেমন কিছু করার ছিল না। কিন্তু কলিয়াবরের প্রার্থী অগপর কার্যকরী সভাপতি কেশব মহন্তের ভাই মনিমাধব মহন্তকে জয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল বিজেপিও। খোদ সর্বানন্দ সোনোয়াল হিমন্তবিশ্ব শর্মা একের পর এক পদযাত্রা করেছেন কলিয়াবরের বিভিন্ন স্থানে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, সাংসদপুত্র গৌরব গগৈকে হারিয়ে তরুণ গগৈকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া। কিন্তু ভোটে ভালো ফলাফল হলেও শেষ পর্যন্ত সেই আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে সর্বা-হিমন্তের। তবে লোকসভায় সাংসদ-প্রাপ্তি রাজ্য সভায় একটি আসন হয়তো পেয়ে যাবে অগপ। বিজেপির সঙ্গে জোটের সেটাই হবে একমাত্র প্রাপ্তি।শাসক দলের সঙ্গে থাকার সুবাদে অগপ মোটামুটি ঘর সামলে নিতে পারলেও গোটা দেশের সঙ্গে অসমেও কংগ্রেসের অবস্থা শোচনীয়। খুব বেশি আশা না করলেও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় কমপক্ষে পাঁচটি আসনে জয়ের সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। কিন্তু সর্বা-হিমন্তের জমানায় গতবারের সংখ্যাতেই আটকে থেকেছে বিরোধী দল। ভোটের ময়দানে আজমলের দলের সঙ্গে সরাসরি আঁতাত করেনি কংগ্রেস, তবে আড়ালে একটা চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কলিয়াবর ও নগাঁও কেন্দ্র ছাড়া সেটা খুব বেশি কাজে আসেনি। তাই কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংঙ্ক হাত ছাড়া হওয়া। সংখ্যাগুরু হিন্দু ভোটের সঙ্গে চা উপজাতিরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে গোটা রাজ্যেই। বিভিন্ন জাতি, জনগোষ্ঠীর ভোটও আর সঙ্গে নেই, সেখানে বিজেপির দখল পাকাপোক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।তাই উজানে কংগ্রেসের হাত শূন্য। যে তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে তারা, তিনটিতেই মুসলিম ভোট হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ বা প্রায় সমান সমান। এবং এর জোরেই এগিয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীরা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে শুধু মুসলিমদের মধ্যে অস্তিত্ব বজায় রয়েছে কংগ্রেসের। তাই পরিস্থিতি আঁচ করে ভোটের আগেই হেমন্ত কটাক্ষ করেছিলেন, পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে আশ্রয় নেন রাহুল গান্ধী, গৌরব গগৈরা। ভোটের ফলও সেটাই প্রমাণ করেছে। আমেথি ছেড়ে রাহুল জয়ী হয়েছেন কেরলের ওয়ানাডে আর নিজেদের যোরহাট কেন্দ্র ছেড়ে গৌরব গগৈ কলিয়াবরে। কিন্তু মাত্র দু’বছর দুর রয়েছে বিধানসভার ভোট। ফলে সেদিকে তাকিয়ে সংখ্যাগুরু ভোটে দখল বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে কংগ্রেসকে। ভোটের ফলাফল আসার আগেই প্রদেশ সভাপতি রিপুন বরার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছে কংগ্রেসে। এবার মাত্র তিনটি আসনে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্রোহের আগুন আরও ছড়াবে বলেই মনে হচ্ছে।গত পঞ্চায়েত ভোটের ফল দেখে অসমের রাজনীতি থেকে আজমল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছেন বলেই ধারণা জন্মেছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু লোকসভা ভোটে সেই ধারণা ভেঙেছে। মাত্র তিনটি কেন্দ্রে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে বাকি কেন্দ্রগুলিতে কংগ্রেসকে জয়ী হওয়ার পথ খুলে দেন আজমল। কিন্তু সেই তিনটি কেন্দ্রেই কড়া লড়াই উপহার দিয়েছেন তিনি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত করিমগঞ্জ ও এআইইউডিএফের ভোটব্যাঙ্ক অক্ষত থাকার প্রমান যেমন মিলেছে তেমনই বরপেটায়ও।সূত্রঃ যুগশঙ্খ