টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহ জমানা শুরু হতেই কোণঠাসা হয়ে যান লৌহপুরুষ। `মার্গদর্শক মণ্ডলী’তে ঠাঁই হয়েছিল তাঁর। এবার গান্ধীনগর থেকে আদবানিকে সরিয়ে প্রার্থী বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। স্বাভাবিকভাবে এই নিয়ে প্রশ্ন শুরু হয়েছে নানা মহলে। তাহলে পাকাপাকিভাবে আদবানি যুগের অবসান হল বিজেপিতে?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারাণসী, লখনউয়ে রাজনাথ সিংহ, নাগপুরে নিতিন গড়কড়ি, রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে অমেঠিতে স্মৃতি ইরানি লড়বেন প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু শুভ মুহূর্ত বেছে ঘোষিত বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল গুজরাতের গান্ধীনগর আসন থেকে লালকৃষ্ণ আদবানির বদলে প্রথমবার লোকসভা ভোটে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের লড়ার সিদ্ধান্ত।

মোদী-শাহ জুটি বিজেপির দায়িত্বে আসার পরেই ‘মার্গদর্শক মণ্ডলী’তে ঠাঁই হয়েছিল লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর জোশীর মতো প্রবীণ নেতাদের। বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে থাকা আদবানিকে এ বারে প্রার্থী না করার পিছনে দলের যুক্তি, ভোটে জয়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের সমীক্ষাতেও উঠে এসেছে, আদবানির বদলে অমিত শাহ প্রার্থী হলেই জয়ের সম্ভাবনা আছে।

দিল্লির অলিন্দে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বিজেপিতে আদবানি-যুগের পাকাপাকি ভাবে অবসান হল? সক্রিয় রাজনীতি থেকে কি তাহলে এ বারে বিদায় নিতে হল একদা ‘লৌহপুরুষ’ হিসেবে পরিচিত আদবানিকে? বিজেপির আসন ঘোষণার পরেই কংগ্রেস আদবানিকে  প্রার্থী না করা নিয়ে কটাক্ষ করেছে। দলের নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘প্রথমে জোর করে লালকৃষ্ণ আদবানিকে মার্গদর্শক মণ্ডলীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ বার তাঁর আসনও কেড়ে নেওয়া হল। মোদী যখন দলের প্রবীণ নেতাদেরই সম্মান করতে পারেন না, দেশের জনতাকে কী করে করবেন? বিজেপি ভাগাও, দেশ বাঁচাও।’’

বিজেপি সূত্র বলছে, প্রবীণ নেতা আদবানিকে ইতিমধ্যেই দলের মনোভাব জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সঙ্ঘ-বিজেপির যোগসূত্র রক্ষার দায়িত্বে থাকা নেতা রামলাল আদবানির কাছে বার্তা নিয়ে যান। ৭৫ বছরের বেশি বয়সি নেতাদের জয়ের সম্ভাবনা না থাকলে এমনিতেই প্রার্থী করা হবে না, সেটি আগেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপিরই একটি অংশের মতে, গান্ধীনগর আসন ১৯৮৯ সাল থেকে বিজেপির গড়। সেখানে আদবানি জিততে পারতেন না, এ ধারণা ভুল। অমিত শাহ যে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে এসেছেন, সেটিও আদবানিরই সংসদীয় কেন্দ্রের অধীনে।

জনপ্রিয়তার নিরিখেই হেমা মালিনীকে ফের মথুরায় প্রার্থী করা হয়েছে। আর সুষমা স্বরাজ আগেই ভোটে না লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। অরুণ জেটলিও অসুস্থ।