টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত আগস্টে জম্মু-কাশ্মীরকে দেওয়া সংবিধানের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিল করে কেন্দ্রের দ্বিতীয় মোদি সরকার। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল হলেও অরুণাচল প্রদেশের ৩৭১ ধারা বাতিলের কোনো প্রশ্নই নেই। সংবিধানের ৩৭১ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে ভুলভাল তথ্য ছড়ানাে হচ্ছে। উত্তর – পূর্বের অধিকাংশ রাজ্য ৩৭১ ধারার মাধ্যমে যে বিশেষ সুযােগ সুবিধা পায়, তা প্রত্যাহারের কোনও ভাবনা সরকারের নেই — বৃহস্পতিবার অরুণাচল প্রদেশে দাঁড়িয়ে এই আশ্বাসবাণী শােনালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে , শাহের অরুণাচল সফর নিয়ে সমালােচনায় সরব চিন।

ভারতের অবশ্য বক্তব্য , অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সেখানে কোনও ভারতীয় নেতার সফর নিয়ে বাইরের কারও কিছু বলার থাকতে পারে না। ৩৪ তম রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যােগ দিতে বৃহস্পতিবার অরুণাচলে গিয়েছিলেন শাহ। সেখানে তাঁর বক্তব্য , ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু – কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে খবর ছড়ানাে হচ্ছে ৩৭১ ধারাও প্রত্যাহার করা হবে। সেটা কখনওই হবে না, কারও তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই। উল্টে উত্তর – পূর্বে শান্তি প্রতিষ্ঠাই যে মােদী সরকারের লক্ষ্য , তা তুলে ধরার চেষ্টা চালান অমিত।

অমিতের কথায় , ‘ উত্তর পূর্বে শান্তি ফেরাতে সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। সম্প্রতি বড়াে – চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৪ সালে যখন আপনাদের ভােট চাইতে আসব , উত্তর – পূর্ব ততদিনে জঙ্গি সমস্যা , অন্তঃরাজ্য সমস্যা থেকে পুরােপুরি মুক্ত হয়ে যাবে। ‘ অমিতের দাবি , মােদী উত্তর পূর্বের উন্নয়ন চান বলেই পাঁচ বছরে ৩০ বার এখানে এসেছেন।

চিনের সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় শাহের সফর অবশ্য চিনের পছন্দ হয়নি। অরুণাচলকে বরাবর দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে আসা চিনের অভিযােগ , এই সফরের মাধ্যমে ভারত আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব নষ্ট করেছে। ভারতের সঙ্গে চিনের পারস্পরিক রাজনৈতিক বিশ্বাস নষ্ট হচ্ছে। ভারত অবশ্য তা মানতে নারাজ। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমারের বক্তব্য , ‘ অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতীয় নেতারা অন্য রাজ্যের মতাে এখানেও সফর করেন। এতে আপত্তির কিছু নেই। ‘

চিন সীমান্ত সংলগ্ন এই রাজ্যের দেশাত্মবােধের কথা তুলে ধরেছেন শাহ নিজেও। তাঁর বক্তব্য , ‘ কোথাও কোথাও লােকে দেখা হলে নমস্তে ‘ বলেন , কোথাও রাম রাম ‘ , কোথাও আবার কেম ছাে ‘ । কিন্তু অরুণাচলের মানুষ বলেন ‘ জয় হিন্দ ‘।