টিডিএন বাংলা ডেস্ক:  অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে জারি করা ‘ সন্দেহভাজন বিদেশি ’ নােটিশে রয়েছে বিস্তর গরমিল। নােটিশ রেজিস্ট্রেশন বইয়ে যা লেখা হয়েছে , নােটিশের বয়ানের সঙ্গে তার মিল নেই। তা সত্ত্বেও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একতরফা রায়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাই হয় গােয়ালপাড়া জেলার রামহরির চরের বাসিন্দা আবদুল কালামের। এই একতরফা রায়ের পেছনে ভয়াবহ গাফিলতি ধরে ফেলেছে গৌহাটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকে খারিজ করে দিয়ে কালামকে ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট , যাতে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নিজেকে নাগরিক হিসাবে প্রমাণ করাতে । সুযােগ পান। 

অসমে বিদেশি মামলায় বিচারের নামে কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে তার আরও এক নজির এই ঘটনার মাধ্যমে সামনে এল। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের চোখে যে অসংগতি খুব সহজেই ধরা পড়ল , সেটা দেখতেই পাননি ট্রাইব্যুনালের মেম্বার। এতেই স্পষ্ট , বিভিন্ন ট্রাইব্যনালে ঠিক কীভাবে বিচার হচ্ছে। 

গােয়ালপাড়ার আবদুল কালামের নামে বিদেশি মামলা রুজু হয়েছিল গুয়াহাটিতে রামরূপ ( মেট্রো ) – র ৫ নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ২০১৮ – তে। নােটিশ পেয়েও কালাম ট্রাইব্যুনালে যাননি। এই যুক্তিতে গতবছরের ২৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে একতরফা নির্দেশ জারি হয়ে যায়। এরপর তাকে গােয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পেও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। কারণ তিনি ট্রাইব্যুনাল ঘােষিত বিদেশি। কামরূপের ৫নং  ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিট পিটিশনের মাধ্যমে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কালাম। 

১৯৫১ – র এনআরসি – র তথ্য থেকে শুরু করে ১৯৬১ , ১৯৬৬ , ১৯৭০ , ১৯৭৭ , ১৯৭৯ – র ভােটার তালিকাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন কালামের বাগ মুহাম্মদ মকবুল হােসেন ভারতীয় নাগরিক। এই সব তথ্য হাইকোর্টে তুলে ধরেন কালামের আইনজীবী। এরপরই বিচারপতি সুমন শ্যাম ও বিচারপতি হিতেশ কুমার শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একতরফা রায় খারিজ করে কালামকে ডিটেনশন মুক্ত করার নির্দেশ দেয়।