টিডিএন বাংলা ডেস্ক : নিরীহ কাশ্মীরীদের উপর আক্রমন আসলেই ভারতের সংবিধান বিরোধী। এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যামনেস্টি।
সম্প্রতি পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চক্রান্তকারী কিছু মানুষ দেশের মধ্যে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ কাশ্মীরিদের উপর হামলা শুরু হয়েছে। এই হামলার জেরে জারি করতে হয়েছে কার্ফু। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই হামলার জেরে আহত হয়েছেন অনেক মানুষ। ইন্টারন্যাশনাল অ্যামনেস্টি প্রধান আকার প্যাটেলের তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, সাধারণ নারী-পুরুষেরা যেন আক্রমনের লক্ষ্য না হয়। কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকারের উচিত যে বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা। উত্তরখন্ড, বিহার, হরিয়ানা, দেরদুনে লাগাতার নিরীহ কাশ্মীরিদের উপর হামলা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের নির্দেশ নিরাপত্তা প্রদানের কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং পুলিশ নিরীহ কাশ্মীরিদেরই গ্রেফতার করেছে। যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

এদিকে কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মতে, পুলওয়ামার হামলা যেন কোনও বিভেদকামী চক্রান্তে ইন্ধন না জোগায় তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ‘জম্মুতে দুষ্কৃতীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে দেখে আমি উদ্বিগ্ন। রাজ্যপালের প্রশাসনের উচিত ছিল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। জম্মুর আইজি-কে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছি।’ ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লার কথায়, ‘কাশ্মীরি বা মুসলিমেরা সিআরপি জওয়ানদের উপরে হামলা করেননি। করেছে জঙ্গিরা। ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে নিরীহ মানুষের উপরে হামলা চালিয়ে জওয়ানদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো যাবে না।’

পুলওয়ামার হামলার প্রতিবাদে জম্মুতে হরতালের ডাক দেয় বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। জম্মুর বিভিন্ন অংশে বড় মাপের পাকিস্তান-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমশ তা কাশ্মীরি-বিরোধী বিক্ষোভের চেহারা নেয়। কাশ্মীরিপ্রধান এলাকা বেছে বেছে হামলা শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েল চক, পুরানি মান্ডি, রেহরি, শক্তিনগর, পাক্কা ডাঙ্গা, জানিপুর, গাঁধীনগর, বক্সীনগর এলাকায় পথে নামে জনতা। গুজ্জর নগরে কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়। অন্য রাজ্যেও কাশ্মীরিদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। বিক্ষিপ্ত হিংসা হচ্ছে জম্মুতেও। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক জন কাশ্মীরি জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছে। এক জনের কথায়, ‘বাঁচতে চাইলে জম্মু ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ওরা।’

রাজ্য পর্যটন দফতরের জম্মুর রিসেপশন সেন্টারে কর্মরত কাশ্মীরিরা সুরক্ষা চেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাইরাল হয়েছে কয়েকটি ভিডিয়ো। একটিতে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া চাদর জড়ানো এক ব্যক্তির নেতৃত্বে দু’জনকে মারধর করছে এক দল বিক্ষোভকারী। অন্য একটি ভিডিয়োতে জম্মুর একটি বাজারের বাইরে ফ্লেক্স ছেঁড়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভবত ওই বাজারে কাশ্মীরিদের শীতের জামাকাপড় বিক্রির দোকান রয়েছে। জঙ্গি হামলার পরে থেকেই কার্ফু জারি হয়েছে জম্মুতে। ফ্ল্যাগ মার্চ করছে সেনাও।