টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বিস্কুট চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বচসা ছাড়ল। শেষ পর্যন্ত খুন করা হল এক ছাত্রকে। স্কুলের মধ্যেই খুন করে পুঁতে দেওয়া হল ১২ বছরের ছাত্রর দেহ। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্তরাখণ্ডে। বিস্কুট চুরি নিয়ে ঝামেলার জেরে উঁচু ক্লাসের দাদাদের হাতে বেদম প্রহারে মৃত্যু হয়েছে ১২ বছরের এক ছাত্রের। অপরাধ ধামাচাপা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ক্যাম্পাসেই পুঁতে দিয়েছে তার দেহ! এরকমই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের কাছের এক স্কুলের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাসের শুরুতে চিলড্রেনস অ্যাকাডেমি নামে ওই স্কুলের ছাত্রদের বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেইসময়ই বাসু যাদব ১২ বছরের ছাত্র একটি দোকান থেকে ১ প্যাকেট বিস্কুট চুরি করে ধরা পড়ে যায়। শাস্তি হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রাণিপোকরি থানার এসআই পিডি ভাট জানিয়েছেন, এতেই উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের ক্ষোভ জন্মেছিল বাসু যাদবের উপর।

এরপরই বিকেলে বাসুকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা একটি ক্লাসরুমে বন্ধ করে ক্রিকেট ব্য়াট ও উইকেট দিয়ে বেধাড়ক পেটায়। শুধু তাই নয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাহর গায়ে হিম শীতল জলও ঢেলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে গুরুর অবস্থায় ফেলেই তারা সেখান থেকে চলে যায়। বেশ কয়েক ঘন্টা ওই অবস্থায় পড়ে থাকার পর হোস্টেলের ওয়ার্ডেন তাকে ওই অবস্থায় খুঁজে পান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে বাসু যাদবকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাসুর বাবা পাপ্পু যাদবের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্থ শুরু করেছে। দেরাদুনের এসএসপি নিবেদিতা কুক্রেতি জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের রিপোর্টে অভ্যন্তরীণ জখমেই মৃত্যুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের প্রধান ঊষা নেগি-র অভিযোগ, অপরাধ গোপন করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই রাতেই বাসুকে ক্যাম্পাসেই এক জায়গায় মাটিতে পুঁতে ফেলেন। বাসুর বাবা পাপ্পু যাদব জানিয়েছেন, বাসুর দেহ মাটির নিতে পুঁতে ফেলার পর তাঁকে খবর দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ময়না তদন্তে সত্যটা সামনে এসেছে।
আপাতত, দুই ছাত্রসহ পাঁচ ব্যক্তিকে এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদলতে তোলা হয়।