টিডিএন বাংলা ডেস্ক: তাঁকে নিয়ে রাজনীতির মাঠে বিতর্ক কম হয়নি। হিন্দুত্বের পোষ্টার বয় বলে পরিচিত যোগী আদিত্যনাথের একাধিক মন্তব্য দেশে সমালোচিত হয়েছে। তবুও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রচারে লাগিয়ে মেরুকরণের রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে বিজেপি।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে কাজে আসল না উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রচারও। যে তিন রাজ্যে বিজেপির হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন আদিত্যনাথ, সেই রাজ্যগুলিতেই বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়েছে। খবর অনুযায়ী, বিজেপির স্টার প্রচারক যোগী ৬৩ টি আসনে প্রচার করেছিলেন। যার মধ্যে বিজেপি হেরেছে প্রায় ৬০ শতাংশ আসনে। অর্থাৎ যোগীর সাফল্যের হার ৪০ শতাংশ। এমনই মনে করছে বিরোধী শিবিরগুলি।
বিজেপির হিন্দুত্বের প্রতীক যোগী আদিত্যনাথ মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানের মোট ৬৩টি কেন্দ্রে গিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। যার মধ্যে মাত্র ২৬টি আসনে জিতেছে বিজেপি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছত্তিশগড়ের। যেখানে আদিত্যনাথ ২৪টি আসনে প্রচার চালিয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি মাত্র ৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। যেখানে ২০১৩ সালে বিজেপি ১৬টি আসন পেয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের ১৩টি আসনে জনসভা করেছিলেন আদিত্যনাথ, যার মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী বিজেপি। ২০১৩ সালে যেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল ৮টি। রাজস্থানেও চিত্রটা একই রকম। ২৬টি কেন্দ্রে আদিত্যনাথ প্রচার চালালেও ১৩টি কেন্দ্রে জয়লাভ করেছে বিজেপি। শেষবার যেখানে ২৩টি আসন পেয়েছিল গেরুয়া দল।
আদিত্যনাথের প্রচার নিয়ে তাই বিজেপি দলের মধ্যে বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠছে। হিন্দুত্বকে কাজে লাগাতেই যোগী আদিত্যনাথকে তিনরাজ্যে প্রচারে পাঠানোর কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু অবশেষে সেই কৌশলও কোনও কাজে আসল না।

অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের আগে যোগীর প্রচারের সময় তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য অনেকসময়ই মানুষকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিল। রাজস্থানে প্রচারের সময় যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছিলেন, রাম মন্দির নিয়ে কোনও হুমকি আসলে জঙ্গি সংগঠন জইশ–ই–মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে নিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করবেন। এমনকী তিনি হনুমানকেও দলিত বলে মন্তব্য করায় আদিত্যনাথের ওপর বেজায় চটে যায় জনগণ।
অন্য রাজ্যে যখন ভোট প্রচারে ব্যস্ত যোগী, তাঁর নিজের রাজ্যেই সাম্প্রদায়িক অশান্তি ঠেকাতে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে এক ইন্সপেক্টরকে। বুলন্দশহরে গো–রক্ষকদের হাতে খুন হন পুলিস ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার সিং। এই ঘটনা যখন ঘটছে তখন যোগী রাজস্থানে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। যদিও তারপরেও বিজেপির মুখ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে মোদির অমিতের মতো যোগীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি মুখথুবড়ে পড়বে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।