টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই গোরুর মাংস নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।গোমাতাদের নিয়ে মোদী সরকারের আবেগ যতই ঝরে পড়ুক বিফ রপ্তানীতে ভারত কিন্তু দ্বিতীয়। ২০১৫ তে মোদী সরকারের জামানাতেই ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিফ রপ্তানীতে প্রথম হয়েছিল ভারত।।২০১৭তে দ্বিতীয় থেকে নেমে এসেছিল তৃতীয় স্থানে। গোমাতার জন্য সন্তানদের তাণ্ডবের সময়ই সমীক্ষায় রিপোর্ট পাওয়া গেল যে, তৃতীয় স্থান থেকে ফের দ্বিতীয় অবস্থানে ফিরেছে।

গো-মোষের গলায় ছুরি চালিয়ে তাবড় তাবড় দেশকে টেক্কা দিয়েছে ভারত। ইউনাইটেড স্টেটস অব এগ্রিকালচার সূত্রে জানা যায়,  চলতি বছরের শেষে বিফ রপ্তানীতে ভারত থাকবে দ্বিতীয় স্থানে। মাঝে শোনা যায়, গোরক্ষকরা অনেকেই নাকি চোরা চালানকারী। নিজেদের কুকর্ম ঢাকতে ভণ্ড গোরক্ষক সেজে থাকে।

সম্প্রতি বুলন্দশহরে পুলিশের মাথায় গুলি করে তারা নিজেদের অস্তিত্ব ফের জানান দিল। এটা থেকে বলা যায়, সচেতনভাবে গেরুয়া শিবির গরু নিয়ে রাজনীতি চালাচ্ছে। অথচ এদের আমলেই বিফ রপ্তানী অনেক বেড়েছে।

সমীক্ষায় জানা যায়, বিশ্বের চারটি দেশ মোট ৬৬% বিফ রপ্তানী করে। ব্রাজিল থেকে ১৯.৩৩%। এর পরেই ভারত রপ্তানী করে ১৮.১৪% । দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া করে ১৫.৩৭%, চতুর্থ স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করে ১৩.১০%। এই দেশগুলোর কোনটাতেই তো গোরক্ষক নেই। গরুকে সামনে রেখে নির্বাচন লড়াইয়ের কথা ভাবে না। গরুকে মাতা জ্ঞানে সম্মান করছ কারো ধর্মীয় আবেগে সুড়সুড়ি দেওয়া হয় না।

বিজেপির দাবী, মোদী জমানায় গরুরা না কি বেশী সুরক্ষিত। দেশে বহু গোশালা তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধ গরুদের রাখার বন্দোবস্ত হয়েছে। গবাদি পশুর সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান প্রথম। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ভারতে গোমাংস শিল্পের উন্নতির প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ বহু রাজ্যে নিষিদ্ধ গোমাংস। হাতেগোনা কয়েকটা মাত্র রাজ্যেই গোমাংস মেলে। অথচ রপ্তানী হচ্ছে নিয়মিত। এর অর্থ হল, গোমাতার গলায় ছুরি চালাতে অসুবিধা নেই। অসুবিধা হল কে ছুরি চালাচ্ছে, তার জাত নিয়ে। গরীব কসাইদের হাত থেকে এই ব্যবসা সুচতুরভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে নিজেদের হাতে। দেশের দশটি বড় বড় কসাইখানাই অমুসলিমদের হাতে। একথা স্পষ্ট যে, যতই গরু নিয়ে রাজনীতি হোক না কেন, বদলায় নি গোমাতাদের অবস্থা। তাই দেশে নয়, তাদের মাংস বিকোচ্ছে বিদেশে।