টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বিগত লোকসভা নির্বাচনে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি বিজেপি সরকার। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রতিশ্রুতির কথা বেশি বলতে পারছে না। কারণ মানুষ তাদের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তাই সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটিয়ে ফের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বিজেপি। শুক্রবার আসামের কোকরাঝাড় সংসদীয় আসনের সিপিআই(এম) প্রার্থী বিরাজ ডেকার সমর্থনে সরভোগে এক নির্বাচনীসভায় একথা বলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পলিট ব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার।

পার্টির প্রার্থীর সমর্থনে এদিন সরভোগে বিশাল মিছিল সংগঠিত হয়। মিছিল শেষে রাতে হয় জনসভা। পার্টি নেত্রী সত্যবতী ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মানিক সরকার বলেন, ১৯৭৭’র পর এবারের নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ’৭৭-এ ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সমস্ত বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছিল। বিরোধীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা হয় জেলে ছিলেন, নয় আত্মগোপনে ছিলেন। সেদিন ইন্দিরা গান্ধী ভেবেছিলেন তাঁকে হারানোর কেউ নেই। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেল স্বয়ং ইন্দিরা সহ কংগ্রেসের পতন ঘটল। দেশের মানুষ গণতন্ত্র রক্ষার পক্ষে রায় দিয়েছিলন।

তিনি বলেন, মোদীর শাসনে দেশের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আজ আক্রান্ত। অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাই বিভিন্ন দল তাদের মতাদর্শ, কর্মসূচিগত দিক দিয়ে ফারাক থাকলেও গণতন্ত্র, সংবিধান রক্ষা করার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপি’র পরাজয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এজন্যই এবারের নির্বাচন অন্যবারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্ব উপলব্ধি শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি করেছে এমন নয়,যারা রাজনীতি থেকে সাধারণত দূরে থাকেন, এর মধ্যে বিজ্ঞানী, নাট্যকর্মী, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী তাঁরাও বিজেপি সরকারের পরাজয় ঘটানোর জন্য আবেদন জানাচ্ছেন। বিজেপি’র মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি আবার ক্ষমতায় আসুক তারাও চান না।

মানিক সরকার বলেন, বিজেপি টের পেয়েছে তাদের ক্ষমতায় ফেরা কঠিন। তাই কোথাও কোথাও ভোট লুট করছে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করতে, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে কেন্দ্রে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠন জরুরি। এই সরকারে বামপন্থী প্রতিনিধিরা থাকলে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করতে বাধ্য হবে সরকার। তাই কোকরাঝাড় আসনে সিপিআই(এম) প্রার্থীকে জয়ী করার আবেদন জানান মানিক সরকার। সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রার্থী বিরাজ ডেকা, পার্টি নেতা মনোরঞ্জন তালুকদার। মঞ্চে ছিলেন পার্টির প্রবীণ নেতা হেমেন দাস, উদ্ধব বর্মণ প্রমুখ।