টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রোম যখন পুড়ছিল, সম্রাট নিরো তখন নাকি বেহালা বাজাচ্ছিলেন। কারো পৌষ মাস তো কারো সর্বনাশ।কিন্তু শহীদের শবদেহ নিয়ে চলা ট্রাকে উঠে বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ শনিবার যা করলেন, তা দেখে রাগে ফুসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বত্রিশ পাটি দাঁত দেখিয়ে হাসতে হাসতে চলেছেন শববাহী গাড়িতে।শোক নয় যেন আনন্দের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। জনতার দিকে তাকিয়ে হাত নেড়েছেন।যেন এটা তার ভোটের রোড শো।

সিআরপিএফ জওয়ান অজিত কুমার শহিদ হন পুলাওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে। তার দেহ নিয়ে উন্নাও-এ বিশাল শোক মিছিল বের হয়। আর এখানেও হাজারো মানুষের সামনে নিজের মুখ দেখাবার সুযোগ ছাড়তে রাজি হননি বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ। তিনি নিজেও উন্নাও এর সাংসদ। সোজা তিনি চড়ে বসেন শহীদের দেহ বহন করা গাড়িতে। শ্রদ্ধার ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ির একেবারে সামনে সাক্ষী মহারাজ। সবাই যখন শোকে মুহ্যমান, তখন দিব্যি দাঁত বার করে হাসছেন বিজেপি’র সাংসদ। আর কে বা কারা ওই ছবি পোস্ট করে দেয় সোশ্যাল মিডিয়াস। সবাই যে যার মত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গেছেন সেখানে। কংগ্রেস মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেছেন, এটাই হল আসল বিজেপি সাংসদদের আসল চেহারা। শহীদের দেহ নিয়ে রাজনীতি করতে এসেছেন করুন, কিন্তু শহীদদের অসম্মান করা হবে কেন?  আর একজন লিখেছেন,সাক্ষী মহারাজ এর ছবি দেখে মনে হচ্ছে তিনি উৎসব করছেন। এরা আমাদের আইন সভার সদস্য?  লজ্জা থাকা উচিত তাদের। ড. রাম পুনিয়ানি বলেছেন, লজ্জার একশেষ। শববাহী ট্রাকে উঠে হাসছেন আমাদের সংসদ। এতে শহিদের অপমান করা হচ্ছে।

একজন লিখেছেন, পাঞ্জাবের মন্ত্রী তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার নভোজ্যোৎ সিং সিধু যা মন্তব্য করেছিলেন, তার চেয়ে হাজার গুন বাজে ব্যবহার করেছেন সাক্ষী মহারাজ। বিজেপি নেতারা কোন মুখে সিধুর সমালোচনা করেন? আর একজন লিখেছেন, ধর্ষণ-খুন-গৃহদাহ ইত্যাদি মামলায় বহুদিন তিহার জেলে থাকতে হয়েছিল সাক্ষী মহারাজকে। এমন একজন অপরাধীকে এনে সাংসদ বানিয়েছে বিজেপি। এই লজ্জা গোটা দেশের। তিনি এখন শহীদের দেহ নিয়ে রাজনীতি করছেন। শহীদের মৃত্যুতে উৎসব পালন করছেন যেন। তার স্থান হওয়া উচিত তিহার জেলেই। একজন লিখেছেন, জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার কী আকুল প্রচেষ্টা।যারা তাকে ভোট দিয়ে সংসদ বানিয়েছিলেন, তাঁদেরই উচিত সাক্ষী মহারাজকে টেনে নামিয়ে দেওয়া। প্রশান্ত কুমার বলেছেন বারবার জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়েছেন, হাতজোড় করেছেন সাক্ষী মহারাজ। তার জানা উচিত এটা বিজেপির রোড শো নয়, শহীদের শেষ যাত্রা।