টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করতে পুরোদস্তুর ময়দানে নেমে পড়েছে কেন্দ্রের শাসক দল। বস্তুত ৪৯ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা দিয়েই লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। নেতৃত্বে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভাপতি। কাশ্মীরের ঘটনার পরে গোটা দেশ স্তম্ভিত হলেও নির্বাচনী প্রচারের কর্মসূচি বাতিল করেননি প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন রাজ্যে জনসভা করে বেড়াচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ছিলেন বিহারে। সেখানে বেগুসরাইয়ের জনসভায় মোদী ভাষণ শুরুই করেন ‘বদলার’ আওয়াজ তুলে। তাঁর ভাষায়, ‘যে আগুন জনগণের মনে জ্বলছে তা আমার হৃদয়েও জ্বলছে।’ জওয়ানদের মৃত্যু বৃথা যাবে না। বদলা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীকেই পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে জবাব দেবার। এর পরই প্রধানমন্ত্রী নিজের সরকারের সাফল্যের বিবরণ দিতে থাকেন, দাবি করেন সাড়ে চার বছর আগে বিজেপি-র সরকার তৈরি হয়েছে বলেই পিছিয়ে থাকা মানুষ এখন উন্নয়নের স্বাদ পাচ্ছেন। কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যত বিপজ্জনকই হোক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নয়াদিল্লি ছেড়ে দলের সভা করছেন। ওডিশার চার জেলার বিজেপি-র বুথ স্তরের কর্মীদের সভায় এদিন ছিলেন রাজনাথ সিং। ভদ্রকের রানিতালে সেই সভাতেও রাজনাথ কাশ্মীর প্রসঙ্গে দাবি করেন, মোদী সরকার কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সফল হয়েছে বলেই হতাশা থেকে পুলওয়ামায় ওই আক্রমণ হয়েছে। রাজনাথ বলেন, গত পাঁচ বছরে কত উগ্রপন্থীকে মুছে দেওয়া হয়েছে, আমি সেই সংখ্যা বলব না। কিন্তু সিআরপিএফ ও পুলিশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। যদিও মোদী সরকারের আমলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

একটি হিসাবে ১৭৬শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জওয়ানদের মৃত্যুর ঘটনাও চড়া মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনাথ এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেনাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নেওয়া হবে, প্রতিশোধ নেওয়া হবে। পাকিস্তানকে কড়া শিক্ষা দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাফালে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগান উঠেছে। রাজনাথ এদিন দাবি করেন, চৌকিদার চোর নন, বিশুদ্ধ। কার জন্য মোদী চুরি করবেন, তাঁর তো পরিবারই নেই। মোদীই আমাদের সব সমস্যার সমাধান। কাশ্মীর নিয়ে একধাপ এগিয়ে আসামের লখিমপুরে বিজেপি যুব শাখা আয়োজিত এক সভায় দলের সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা ওই আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। কেন্দ্রে এখন কংগ্রেসের সরকার নেই, বিজেপি সরকার আছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো ইচ্ছাশক্তি রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে কূটনৈতিক, বুলে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে উত্তর দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের সমস্ত ধরনের জবাব দেওয়া হয়েছে। শাহ এদিন এই সভায় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের স্পষ্ট সুরে বলেন, ‘আসামকে দ্বিতীয় কাশ্মীর হতে দেব না।’ সেই লক্ষ্যেই আসামে নাগরিক পঞ্জি তৈরি করা হচ্ছে। ওই পঞ্জি তৈরি হলে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এই কাজ করতে আমরা দায়বদ্ধ।

আসাম ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভ হচ্ছে। শাহ দাবি করেন, মিথ্যা প্রচার ছড়ানো হচ্ছে। শুধু উত্তর-পূর্বে নয়, সমগ্র দেশে শরণার্থীরা নাগরিকত্ব বিলের সুবিধা পাবেন। উল্লেখ্য, এই বিলে ধর্মের ভিত্তিতে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল রাজ্যসভায় অনুমোদন হওয়ার আগেই বর্তমান লোকসভার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। এদিন সিপিআই (এম)-র তরফে অমিত শাহের ভাষণের নিন্দা করে বলা হয়েছে, জওয়ানদের মৃতদেহ নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি করছে বিজেপি। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে নেমেছে বিজেপি।

দেশের প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন তাতাচ্ছেন, তখন সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে সাবধান করে দিয়ে এক বার্তায় বলা হয়েছে, মৃত জওয়ানদের দেহখণ্ড বলে নকল ছবি ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। সোস্যাল মিডিয়ায় এইসব বানানো ছবি ছড়ানো অপরাধ। হিংসা বা উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। টুইটারে এই বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। উল্লেখ্য, হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সোস্যাল মিডিয়া গ্রুপ জওয়ানদের বিকৃত ছবি ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই চেষ্টা শুধু কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সাম্প্রদায়িক চরিত্রের প্রচার চলছে। গণশক্তি