টিডিএন বাংলা ডেস্ক: এনআরসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল এবং অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দু ‘ রকম বিবৃতি দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী এনআরসিছুট বাঙালিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন, অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী এই এনআরসিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে খারিজ করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী যে দু ‘ রকমের অবস্থান নিয়েছে, এর মধ্যে বিজেপির অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বাঙালি হিন্দুদের বিভ্রান্ত করে তাঁদের নাগরিকত্ব হরণ, একটি ভার্ষিক গােষ্ঠীর একাধিপত্য কায়েমের সব রকমের প্রয়াস চালাচ্ছে বিজেপি প্রকার। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী যে বয়ান দিয়েছেন, এরপর আর এ নিয়ে কোনও সংশয় থাকতে পারে না বলে শনিবার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।

তিনি বলেন, সংবাদপত্রে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দেখে আমি আতঙ্কিত। এদিকে হিমন্তবিশ্ব শর্মা প্রতিটি সভায় বলে বেড়াচ্ছেন এই এনআরসি গ্রহণযােগ্য নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এনআরসি নিয়ে অসম সরকারের অবস্থান ঠিক কী? মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানের পর আর এ নিয়ে সংশয় থাকতে পারে না যে সরকার এই এনআরসি মেনে নিয়েছে। তা হলে আবার প্রশ্ন ওঠে, হিমন্তবিশ্ব উল্টো বয়ান দিচ্ছেন কেন? আসলে এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বিজেপির কৌশল।

কমলাক্ষ বলেন, বিজেপি এই এনআরসিকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে এ কথাকে স্বীকার করাচ্ছেনা বাঙালি হিন্দুদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে বলে। অন্যদিকে, বাঙালি হিন্দুদের বশে রাখার জন্য হিমন্তবিশ্বকে দিয়ে এনআরসি মানা হবে না বলে বিবৃতি দেওয়াচ্ছে বিজেপি।

কমলাক্ষ বলেন, এনআরসি নিয়ে বিজেপি এক ভয়ঙ্কর খেলা শুরু করেছে। অসমিয়া এলাকায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য বিজেপি নেতারা বলছেন এই এনআরসি কার্যকর হবে, ১৯ লক্ষ এনআরসি-ছুট নাগরিকদের বহিস্কার করা হবে। আবার বাঙালি এলাকায় গিয়ে বলছেন, এই এনআরসি ত্রুটিপূর্ণ। এর পাশাপাশি হিমন্তবিশ্ব এ কথাও বলছেন হিন্দু খিলঞ্জিয়াদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। এই হিন্দু খিলঞ্জিয়া কথার অর্থ কী? খিলঞ্জিয়া কারা এবং এদের কীভাবে ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজিত করা হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিজেপি নেতারা একের পর এক বিতকির্ত বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। এর একটাই উদ্দেশ্য বাঙালিদের বিভ্রান্ত রেখে রাজ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের একাধিপত্য কায়েম করা।

কমলাক্ষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বাঙালি হিন্দুদের আইনি সাহায্য দেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন, এর কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। আইনি সাহায্য কীভাবে দেওয়া হবে, খরচ কে দেবে, মামলা শেষ হতে কতদিন লাগবে, কবে এনআরসি-ছুটরা নাগরিকত্ব পাবেন, মামলা চলাকালীন তাঁদের স্ট্যাটাস কী হবে, এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই।

কমলাক্ষ বলেন, সর্বানন্দ সরকারের যদি বাঙালিদের সাহায্য করার মানসিকতা থাকত, তা হলে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে ১৬০০টি করণিক পদে মাত্র ১০ – ১২ জন বাঙালির চাকরি হয় না, একইভাবে ২০০টি ট্রাইব্যুনাল সদস্য পদেও মাত্র ৬ – ৭ জন বাঙালির চাকরি হয় না। সর্বানন্দ – হিমন্ত যে বাঙালি প্রীতি দেখাচ্ছেন, এটা ছলনা ছাড়া আর কিছু নয় ।