টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অসমে এনআরসি লাগু হওয়ার ফলে বাঙালিদের দুর্বিসহ জীবনচিত্র সামনে আসতেই আছে। তারই অন্যতম নিদর্শন ভিক্ষুক সরুজ আলীর মৃত্যু। ২০১৭ সালের ৯ ই এপ্রিলে সরুজ আলী ও স্ত্রী গোলাপ জান কে পুলিশ বিদেশী মামলায় গ্রেফতার করে। সেই থেকে তাদের জীবন তেজপুর ডিটেনশন ক্যাম্পে অতিবাহিত হচ্ছিল। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন জীবিকা চলত এই দম্পতির। নওগাঁ জেলার অন্তর্গত ধিঙের বাটাবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন সরুজ সেখ। বাপদাদার পৈতৃক নথিপত্র জমা করেও অফিসার রা মেনে নেন নি তার নাগরিকত্বের প্রমান। আর এজন্য প্রয়োজন ছিল আইনি লড়াইয়ের। আর্থিক অনটন ও সচেতনতার অভাবে তিনি আইনি লড়াইও লড়তে পারেন নি।

তবে তাদের তিন কন্যা ও দুই ছেলে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমান করতে পেরে ভারতীয় হিসাবে বসবাস করছেন। সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রমাণ হলেও দুর্ভাগ্যবশত এই ভিক্ষুক দম্পতির নাগরিকত্ব প্রমাণ হয়নি। ফলে ডিটেনশন ক্যাম্পে অবহেলায় কাটছিল তাদের জীবন।
হঠাৎ সুরজ আলী ঐ ডিটেনশন ক্যাম্পেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ক্যাম্পে তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় নি। ফলে স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হতে থাকে।

অবশেষে সীমান্ত পুলিশ তাকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসে। মেডিকেল কলেজে এসেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ঈদের পর দিন বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর খবর ক্যাম্পের পক্ষ থেকে চেপে রাখা হয় দুই দিন। পরে ময়নাতদন্তের পর তার মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ডিটেনশন ক্যাম্পে সুরজ আলীর মৃত্যু কে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কেন দুই দিন ধরে তার মৃত্যুর খবর চেপে রাখা হয়েছে ? এভাবে আর কত অসহায় পরিবার কে বিদেশী বলে হেনস্থা হতে হবে ? আর এদিকে তার স্ত্রীর কি হবে? তিনি কি ছাড়া পেয়ে তার পরিবারের কাছে যেতে পারবেন ? এরকম অনেক প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সুধী মহল থেকে মানবাধিকার কর্মীদের কাছে।