টিডিএন বাংলা ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশে গো-রক্ষকদের তাণ্ডবে পুলিশের এক কর্মকর্তা সহ এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ৩ ডিসেম্বর দিনভর বুলন্দশহর তাণ্ডব চালায় গোরক্ষকরা। পরিস্থিতি এখনও থমথমে। হাজারের ওপর নিরাপত্তারক্ষীর ভারী বুটে তটস্থ পুরো এলাকা।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় প্রায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের জেলা আহ্বায়ক যোগেশ রাজকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।ঘটনার পর থেকে যোগেশ রাজ পলাতক রয়েছেন।

যোগেশই এ সন্ত্রাসবাদের মূল হোতা ও সে সহিংসতা ছড়াতে ইন্ধন জুগিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। সংবাদ সংস্থা এএনআই তে প্রকাশ, সোমবার বুলন্দশহরের স্যানা মহকুমা এলাকায় মাহু গ্রামের বাইরে জঙ্গল লাগোয়া একটি মাঠে গুরু জবাই হয়েছে বলে চাউর হয়। এ খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে ওই গ্রামের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের গো-রক্ষকরা কর্মীরা। এসময় তারা গরুর দেহাবশেষ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বিক্ষোভ থামাতে ও সড়ক অবরোধ সরাতে স্থানীয় চিংরাবটি পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা সুবোধ কুমার সিংহের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা ইট-পাথর নিক্ষেপসহ পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালাও ও পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সুমিত কুমার নামে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

একইসময় জনতার আক্রমণে রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার সিংহ। মঙ্গলবার সুবোধ কুমারের নিহতের বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার বোন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় তিন বছর আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ফ্রিজে গোমাংস রাখার সন্দেহে উত্তরপ্রদেশের দাদরির বাসিন্দা মুহাম্মদ আখলাক নামে এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সুবোধ কুমার সিংহ।