টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরেই গোটা উত্তরপ্রদেশ রীতিমতো অগ্নিগর্ভ। রাজ‌্যজুড়ে চলছে ভয়ংকর অবস্থা। বিভিন্ন জেলায় জ্বলছে বিক্ষোভের আগুন। রাজ্যে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন বিক্ষোভকারীর। জারি করা হয়েছে কারফিউ। পুলিশের গুলিতে মৃত ১৯ জনের মধ্যে রয়েছে বাংলার এক যুবক। শেখ সিরাজুল ( ২৭ ) । নিহত যুবকের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বজবজ ১নম্বর ব্লকের মায়াপুর গ্রামে । নিহত যুবক থাকতেন মীরাটে ।

জানাগেছে, উত্তর প্রদেশের মীরাটে লেখাপড়ার শেষে একটি বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছিলেন শেখ সিরাজুল । প্রায় ১৫ বছর আগে মায়াপুর গ্রাম থেকে মীরাটে যান ১২ বছরের বয়সে । সেখানে পড়াশোনার শেষে শিক্ষকতার পেশায় যোগ দেন। গত ৪ বছর তিনি বেসরকারি এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন । বাড়িতে তাঁরা ৪ ভাই , ৩ বোন । দরিদ্র পরিবার । বাবা শেখ মনসুর প্রয়াত হয়েছেন । তাঁর ও আগে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর মা মানোয়ারা বিবি ।

স্থানীয় মানুষ জানান , প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মায়াপুর গ্রামে বাড়িতে আসতেন শেখ সিরাজুল । তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা মায়াপুর গ্রাম । নিহত শেখ সিরাজুলের কাকা শেখ বসির আলি এক সময় মায়াপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন । সোমবার তিনি জানান , পুলিশের গুলিতে নিহত শেখ সিরাজুলের দেহ উত্তর প্রদেশ থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে । মঙ্গলবার দুপুরে বিড়লাপুর মাঠে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে ।

উত্তর প্রদেশে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৯ জন । রাজ্যের পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও বেপরোয়া আক্রমণ চালিয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে । গত ২৪ ডিসেম্বর শেখ সিরাজুলের মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার। উত্তর প্রদেশে যোগীর রাজ্যে কেউ যেতে চাইছে না দেখে এক সময় তাঁরা মৃত্যুদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার আশা ছেড়ে দিয়েছিল ।

এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদকে জানানোর পর মৃতদেহ নিয়ে আসতে তাঁরা উদ্যোগ নেওয়ায় নিহতর বড় ভাই শেখ জুলফিকার, শেখ হাফিজুল, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সহ ৯ জন উত্তর প্রদেশে রওনা দেন। তাঁরাই সড়কপথে নিহত শেখ সিরাজুলের মৃতদেহ শববাহী শকটে নিয়ে ফিরছেন। পরিবার পরিজনের মতো মায়াপুর গ্রামের বাসিন্দারাও শোকস্তব্ধ ।

সিরাজুলের গলায় গুলি ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । এই ঘটনায় স্থানীয় ক্ষুব্ধ মানুষেরা ক্ষোভ , ঘৃণা প্রকাশ করলেন বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে । তাঁরা বলেছেন , যোগীরাজের পুলিশ হত্যা করেছে শিক্ষক শেখ সিরাজুলকে । নিহত প্রতিবাদী শিক্ষককে শেষশ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত মায়াপুর সহ আশেপাশের স্থানীয়রা।