ছবি: ইন্টারনেট

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের দিনই রণক্ষেত্রের রূপধারণ করে রাজধানী দিল্লি। সিএএ নিয়ে পক্ষ ও বিপক্ষ সহ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে এবং ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় দিল্লির মৌজপুর ও জাফরাবাদে। হিংসার ঘটনায় নিহত হয়েছেন দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল-সহ ৫ জন আন্দোলনকারীর। আহত হয়েছেন পুলিশের ডিসিপি এসিপি সহ অন্তত ৫০ জন আন্দোলনকারী। হিংসার ঘটনার জেরে দিল্লির উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সোমবার বৈঠকে ডাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, হিংসার ঘটনার জেরে রাজধানীর ১০টি জায়গায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এমনকি মঙ্গলবার উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সরকারি-বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, রবিবার সিএএ নিয়ে আন্দোলনকে ঘিরে, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায় দিল্লির জাফরাবাদে। সোমবার তার রেশ গিয়ে পড়ে গোকুলপুরীতে। মুড়ি-মুড়কির মতো শুরু হয় ইটবৃষ্টি! ভাঙা হয় একাধিক বাড়ির কাচ। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পেট্রোল পাম্পে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে নামানো হয় আধা সামরিক বাহিনী। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। চলে লাঠিচার্জ। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লালের। জখম হন একজন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার-সহ বেশ কয়েকজন অফিসার। সেই সঙ্গে জখম হয় আরও ৫০ জন আন্দোলনকারী।

হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, দিল্লিতে যে হিংসার ছবি দেখা গিয়েছে, দ্ব্যর্থহীনভাবে তার নিন্দা করা উচিত। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ, তবে হিংসা কখনই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। দিল্লিবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, যতই প্ররোচনা দেওয়া হোক, ধৈর্য্য ও সংযম বজায় রাখুন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব‍্যবস্থা গ্ৰহণ করার আবেদন জানিয়েছেন দিল্লির মুখ‍্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি টুইটে লিখেছেন,  ‘মাননীয় লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিল্লিতে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’