টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কৃষকদের বছরে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার যে প্রকল্প ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র, তা নিয়ে নির্দেশিকা জারি করল কৃষি মন্ত্রক। এই নির্দেশে প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হলো করদাতা কৃষক পরিবারকে। বাদ দেওয়া হয়েছে সরকারি পেনশন গ্রাহকদের। বাদ যাবে প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রীদের কৃষক পরিবার। উল্লেখ্য, ২ হেক্টরের নিচে যাঁদের কৃষিজমি রয়েছে, বাজেটে তাঁদের বছরে ৬ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কৃষি মন্ত্রক। এই নির্দেশিকায় প্রকল্পের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ছাড়াও আরও বেশ কয়েক দফা শর্ত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সম্মান নামের এই প্রকল্পে কেন্দ্র বাজেটে বরাদ্দ করেছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ৩১ মার্চের আগেই এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু হবে। তার জন্যই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রথম কিস্তিতে এই প্রকল্পে টাকা পেতে গ্রাহকদের আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা না হলেও দ্বিতীয় কিস্তিতে তা থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এদিকে এই প্রকল্পের গ্রাহকদের পরিচিতি বিষয়ক নথি গ্রাহকদের নিজেই প্রত্যয়িত করতে হবে। তাতে ভুল তথ্য পরিবেশন হলে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘোষিত প্রকল্পে প্রান্তিক কৃষক পরিবার হিসাবে সেই পরিবারকে ধরা হয়েছে, যাদের ২ হেক্টরের নিচে জমি রয়েছে। পরিবার বলতে ধরা হবে কৃষক, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্র ও কন্যাকে। তবে ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষকরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুযোগ কোনও করদাতা পরিবার পাবে না। প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না বড় ভূস্বামী কৃষক। কৃষক পরিবারের কোনও সদস্য যদি বিধায়ক বা সাংসদ হন বা পরিবারে যদি আইনসভার কোনও প্রাক্তন সদস্য থাকেন, তবে সেই পরিবার এই সুযোগ পাবে না। পরিবারের কেউ যদি ১০ হাজার টাকার বেশি সরকারি পেনশন পান, সেই পরিবারও এই প্রকল্প থেকে বাদ যাবে। পরিবারে কেউ রাজ্য বা কেন্দ্রে কোনও সরকারি চাকরি করলে এই প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না। পরিবারে কেউ পেশায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, স্থাপত্যবিদ থাকলে সেই পরিবারের মিলবে না প্রকল্পের অর্থ। উপভোক্তার পরিচয় সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য সরকারের। তাতে কোনও গড়মিল হলে জরিমানার আরোপের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।