তিয়াষা গুপ্ত, টিডিএন বাংলা : প্রধানমন্ত্রী রাজধর্ম পালন করছেন না। মোদীকে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সাবধানবাণী মনে করিয়ে দিলেন অন্ধ্রপ্রদেশর মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু। সোমবার নয়াদিল্লিতে এসে রাজ্যের জন্য বিশেষ মর্য়াদার দাবিতে অনশন আন্দোলন করতে গিয়ে সমর্থনের জোয়ারে ভাসলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে থাকার বার্তা দিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সেখানে পাঠান। সকালেই যান রাহুল গান্ধী। পরে যান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও। ধর্না মঞ্চে গিয়ে মোদীকে একহাত নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

চন্দ্রবাবু নায়ডু এদিন প্রথমে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনশন আন্দোলন শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব এক প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে গিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। রাজ্যের জন্য তাদের এই দাবি নতুন নয়। অভিযোগ, রাজ্য ভাগ হয়ে পৃথক রাজ্য তেলেঙ্গানা তৈরি হওয়ার পর থেকে কেন্দ্র অন্ধ্রকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই দাবি পূরণ করেনি। তাই এই নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করে চলেছেন চন্দ্রবাবু। গতকাল অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে নায়ডুকে একহাত নেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের দেওয়া টাকা খরচ করেনি রাজ্য সরকার। এরপর নয়াদিল্লিতে এসে আন্দোলনের ঝড় বইয়ে দিলেন নায়ডু। তিনি যেভাবে সমর্থনের জোয়ারে ভাসলেন, তা কিছুটা হলেও মোদীর রক্তচাপ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী গুজরাতের ঘটনার সময় রাজধর্ম পালন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন মোদীকে। এদিন চন্দ্রবাবু সেই কথা মনে করিয়ে বললেন, অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষেত্রেও মোদী রাজধর্ম পালন করছেন না মোদী।

বিরোধের সূত্রপাত গত বছর বাজেট পেশের পর থেকে। বাজেটে অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য বঞ্চনা করা হয়েছে এই অভিযোগে সুর চড়ায় চন্দ্রবাবু নায়ডুর দল। তারা রাজ্যের জন্য বিশেষ মর্যাদার দাবিতে অনড় থাকে। অবশেষে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বিশেষ মর্যাদার সমতুল প্যাকেজ ঘোষণা করেও নায়ডুকে ঠাণ্ডা করতে পারেননি। তিনি তাঁর দাবিতে অনড় থাকেন। শেষপর্যন্ত তিনি এনডিএ থেকে সরে আসেন। অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। হেরে গেলও তখনও এই নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমর্থন পেয়েছিলেন।

এদিকে দিল্লিতে মহাজোট তৈরির যে প্রক্রিয়া চলছিল, তাতে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন চন্দ্রবাবু। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মমতা দিল্লি এসেছিলেন। এদিনও তিনি ডেরেক ও’ব্রায়েনকে ধর্না মঞ্চে সমর্থনের বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই আন্দোলন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, প্রাপ্তির হিসেব মন্দ নয়। কারণ তিনি জাতীয় রাজনীতির সমর্থন পেলেন। আগামী দিনে এর থেকে কতটা মাইলেজ পেলেন, তা সময়ই বলবে।