টিডিএন বাংলা ডেস্কঃ মঙ্গলবার দু’দিনের জন্য সফরে ভারতে এসেছেন ব্রিটিশ খ্রিস্টান যাজক জাস্টিন ওয়েলবি। এদিন স্ত্রীকে নিয়ে অমৃতসর জালিয়ানওয়ালাবাগ স্মৃতি উদ্যানে যান তিনি। একশো বছর আগের জালিয়ানওয়ালাবাগ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত লজ্জিত তিনি। সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নৃংশসতার জন্য ক্ষমা চান তিনি। জালিয়ানওয়ালা বাগে এসে তাঁদের আত্মার জন্যে শান্তি প্রার্থনা করলেন ক্যান্টারবেরির আর্ক বিশপ জাস্টিন ওয়েলবি। এ সময় তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি আমি নই। রাজনীতিকও নই। তবে ধর্মীয় নেতা হিসাবে যে মর্মান্তিক ইতিহাসের সাক্ষী হলাম, তাতে শোকস্তব্ধ আমি। যে জঘন্য অপরাধ ঘটানো হয়েছে, তার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত।’

ইতিহাসের পাতায় অতন্ত নৃশসংস ঘটনা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিলে অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে ইংরেজ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে চারদেওয়ালে মধ্যে বন্দি করে ১০ হাজারের বেশি ভারতীয়র উপর নির্বিচারে গুলি চালালো ব্রিটিশ সৈন্যরা। প্রাণ হারিয়েছিলেন অসংখ্য নারী, পুরুষ এমনকি শিশুও। সরকারি মতে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪০০, কিন্তু ভারতীয় তথ্য অনুযায়ী সেদিন মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজারের বেশি মানুষের, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময় দিন ছিল।

মৃতের সংখ্যায় হেরফের হলেও জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ে মতপার্থক্য নেই ইতিহাসবিদদের মধ্যে। এ বার তা মেনে নিলেন ইংল্যান্ডে খ্রিস্টধর্মের মানুষের তীর্থক্ষেত্র হিসাবে প্রসিদ্ধ ক্যান্টারবারি’র যাজকও। একশো বছর আগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত লজ্জিত তিনি।

ওয়েলবি ভিজিটার্স বুকে লিখলেন, ‘একশো বছর আগে এই উদ্যান যে নৃশংসতার সাক্ষী থেকেছে, তাতে আজও এখানে এসে লজ্জায় মাথা নত হয় যাই। আমি প্রার্থনা করি ওই দিন যাঁরা মারা গিয়েছিলেন তাঁদের সবার পরিবার ও উত্তরসূরীরা এই ক্ষত থেকে বেরিয়ে আসুন। ভারত ও তার অনন্য নাগরিকদের জন্যেও আমার আন্তরিক প্রার্থনা। একই সঙ্গে আমার মনের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক প্রবল ইচ্ছা… ইতিহাসের থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যেন হাতে হাত রেখে পৃথিবী থেকে ঘৃণা ও দ্বেষ দূর করে বৃহত্তর ভালোর জন্যে কাজ করার দিকে পদক্ষেপ করতে পারি।’ এদিন জালিয়ানওয়ালা ঘুরে দেখার আগে অমর জ্যোতির সামনে চোখ বুজে মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানান।