টিডিএন বাংলা ডেস্ক : আরএসএসের নির্দেশে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করতে মরিয়া বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্বে দমনপীড়ণ নীতি চালু করল।বিলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লেলিয়ে দিচ্ছে সশস্ত্রবাহিনী। সোমবার গুয়াহাটিতে বাম গণতান্ত্রিক মঞ্চের আহ্বানে দিসপুর চলো অভিযানে আন্দোলনকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ। দিসপুর সচিবালয়ে মিছিল পৌঁছার অনেক আগেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর আন্দোলনকারীদের টেনে পুলিশ ভ্যানে তুলে তাদের গ্রেপ্তার করে। এদিন গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিপিআই (এম) রাজ্য সম্পাদক তথা মঞ্চের আহ্বায়ক দেবেন ভট্টাচার্য, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মুনিন মোহন্ত, সিপিআই (এমএল) সম্পাদক রুবুল শর্মা, এলডিপি সম্পাদক গুন গগৈ, আর সি পি আই সম্পাদক বীরেন ডেকা,এন সি পি সম্পাদক পরেশ বড়ুয়া, সিপিআই(এম) এর প্রাক্তন সাংসদ উদ্ভব বর্মন প্রমুখ। সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেয়।

এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলেের প্রতিবাদে সোমবার শিল্পী ভূপেন হাজারিকার পরিবার ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান করেছে। তার ছেলে তেজ হাজারিকা এ সম্মান প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বাবা তার গানে উত্তর-পূর্বের তথা ভারতের সম্মৃদ্ধ বৈচিত্রের কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে গোটা ভারতের সঙ্গে তাদের একাত্মতা অন্তর্ভুক্তির কথা বলেছেন। তখন নাগরিকত্ব বিলের প্রশ্নে তার নাম রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এজন্যই আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।

আরও বর্বরোচিত ঘটনা দেখা গেছে মণিপুরে। রাজ্যের রাজধানী শহর ইম্ফলে রবিবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাতিলের দাবিতে শতাধিক মহিলা সামিয়ানা টাঙিয়ে ধর্নায় বসেছিলেন।ধর্ণা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মহিলাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে বিজেপি সরকারের পুলিশ। টিয়ারগ্যাস ফাটিয়ে ধর্ণা ছত্রভঙ্গ করে। তারপর বেপরোয়া লাঠি চালায়। পুলিশের লাঠির ঘায়ে ছয়জন জন বয়স্ক মহিলা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে দেখে রাতেই রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স-এ স্থানান্তর করা হয়। পুলিশের বর্বোরোচিত আক্রমণের প্রতিবাদে সোমবার থেকে টানা দু’দিন দোকানপাট বন্ধ ও সড়ক অবরোধ পালন করেছে ৭২ সংগঠন নিয়ে গঠিত মনিপুর পিপলস এগেনস্ট সিটিজেনস আমেন্ডমেন্ট বিল সংস্থা। তাদের দাবি রবিবারের ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।নাগরিকত্ব বিল বাতিল করতে হবে। সোমবার ইম্ফলসহ রাজ্যের একাধিক জেলায় মিছিল সংঘটিত হয়েছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় বিগড়ে যেতে পারে টের পেয়ে রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পূর্ব ইম্ফল জেলার পুলিশ সুপার জানান, জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি ঘেরাও করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় আগাম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিল বাতিলের দাবিতে সোমবার নাগাল্যান্ডে দশ ঘন্টার সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়। নাগাল্যান্ড গাওঁ বুড়া ফেডারেশন এর নেতৃত্বে মোট কুড়িটি সংগঠন এ দিন বন্ধের ডাক দেয়। বনধে যান চলাচল বন্ধ ছিল, কোথাও দোকানপাট খোলেনি, কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের কার্যালয়, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।

বিলের বিরুদ্ধে সোমবার রাজধানী দিল্লি তপ্ত হয়ে উঠেছে। মেঘালয়ের মূখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, নাগরিকত্ব বিল গৃহীত হলে তার দল এন পি পি, এনডিএ ছেড়ে বেড়িয়ে আসবে।এদিন বিলের বিষয়ে কথা বলতে রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন মনিপুর ও অরুনাচল প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী।ধারণা করা হচ্ছে আগামী বুধবার রাজ্যসভায় বিল পেশ করতে পারে মোদী সরকার।এদিন বিল যাতে আটকানো যায় সেবিষয়ে আলোচনা করতে দিল্লি গিয়েছেন অগপ নেতৃত্ব।