টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে নেমেছে বিজেপি। এই ঘটনার পরপর মোদী সরকার যতটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুংকার ছুঁড়ছে, তার চেয়ে বেশি দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর কাজে নেমে পড়েছে। শুক্রবার গুয়াহাটিতে এক আলোচনাসভায় এ অভিযোগ করেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। কার্ল মার্কসের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীর সমাপ্তি অনুষ্ঠান উপলক্ষে পার্টির আসাম রাজ্য কমিটির উদ্যোগে গুয়াহাটির মাছখোয়া প্রেক্ষাগৃহে ‘মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা ও আজকের ভারত’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে। ইয়েচুরি বলেন, পুলওয়ামার ঘটনার পরপর বিরোধীরা চার-পাঁচদিন চুপ ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ একমাত্র বিজেপি তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে ওই সময়ে প্রচারে নেমে পড়ে।

অমিত শাহ পাকিস্তানকে হুমকি দিতে গিয়ে বলছেন এখন কংগ্রেস সরকার নয়, মোদী সরকার। তাই পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। অথচ মোদীর গত পাঁচ বছরের শাসনে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলা আগের চেয়ে চার গুণ বেড়েছে। হামলায় জওয়ানদের মৃত্যুর ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মৃত্যু তিনগুণ বেড়েছে। কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও করেনি সরকার। বরং কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। পুলওয়ামা কাণ্ডের পর গোটা দেশে কাশ্মীরিদের উপর হামলা হচ্ছে। গোটা দেশ জানে এই ঘটনার পেছনে সন্ত্রাসবাদীরা দায়ী। অথচ, মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় সাধারণ কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন। কাশ্মীরিদের বয়কট করতে বলছেন। এর একটাই উদ্দেশ্য, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দুভোট এককাট্টা করা।

মোদী সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। বেকারত্বের রিপোর্ট প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে সরকার। কৃষক আত্মহত্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে দেশের কৃষক-মজদুর-যুব-ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছেন। কৃষকরা লঙমার্চ করছেন। মহারাষ্ট্রের কৃষকদের দাবি পূরণ না করায় দ্বিতীয়বার মার্চ করেছেন তাঁরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সরকার ফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে কৃষকদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে। দিল্লিতেও মার্চ করেছেন কৃষক-শ্রমিকরা। যুবরা কাজ কোথায় বলে মোদীর কাছে জবাব চাইছেন। এই লড়াইকে ভাঙতে বিভেদের রাজনীতি চাঙ্গা করতে চাইছে মোদী সরকার। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, তিন তালাক, সবরিমালা ইত্যাদি বিভাজনের রাজনীতির জন্য সামনে আনা হয়েছে। ইয়েচুরি বলেন, মোদীর আমলে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার ছাড়া বাকি সবাই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। একদিকে পুঁজিপতিদের ঋণ মকুব করছে, কয়েকজনকে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। রাফালে মধ্যস্থতা করে কয়েক হাজার কোটির দুর্নীতি করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। সিবিআই, আরবিআই থেকে শুরু করে সরকারি স্তর, গবেষণা কেন্দ্রগুলিতে আরএসএস’র লোকদের বসিয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে আরও জোরালো করার চেষ্টা করবে বিজেপি। ঐক্যবদ্ধভাবে মোদী সরকারকে উপড়ে ফেলার আহ্বান জানান তিনি। ইয়েচুরি বলেন, লোকসভা নির্বাচনে মোদী বনাম দেশের জনতার মধ্যে লড়াই হবে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শোষণ ও সঙ্কটের ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে ভারতও যে এই সঙ্কটে নিমজ্জিত, তা তুলে ধরেন ইয়েচুরি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সিপিআই(এম)’নেতা হেমেন দাস। ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড.হীরেন গোঁহাই, পার্টিনেতা উদ্ধব বর্মণ। শুরুতে বক্তব্য রাখেন রাজ্য সম্পাদক দেবেন ভট্টাচার্য। আলোচনা সভার শুরুতে পুলওয়ামা কাণ্ডে নিহত জওয়ানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়।