টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দীর্ঘ ৭০ দিন ধরে চলছে মোদি সরকারের ধর্মের ভিত্তিতে আনা নতুন নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি এর বিরুদ্ধে দিল্লির শাহীন বাগে মায়েদের অবস্থান বিক্ষোভ‌। এবার শাহীনবাগের আন্দোলনকে মহাত্মা গান্ধির অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করল সিপিএম। সংবাদসংস্থা এএনআইকে প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ হান্নান মোল্লা বলেছেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আমরা অসহযোগ আন্দোলন দেখেছি। সেটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের একটা মাধ্যম হয়েছিল। সেই ভাবেই শাহিনবাগ প্রতিবাদ দেখাচ্ছে। অনেক বছর পর অহিংস ভাবে আইনভঙ্গ না করে নতুন উদ্যমে প্রতিবাদ চলছে শাহিনবাগে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সাধারণত লন্ডন, প্যারিস, নিউ ইয়র্কে এভাবে অবস্থান করতে দেখি। অধিকার রক্ষার তাগিদে এটা প্রতিবাদের নয়া পদ্ধতি।” ইতিহাস বলছে, ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এই অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, শাহীনবাগ নিয়ে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে অনেক কটু কথা ও কুমন্তব‍্য করেই চলেছে বিজেপি নেতৃত্বে। এখনও বা বলা হচ্ছে বিরিয়ানীর লোভে আন্দোলন করছে। আবার কখনও দেশদ্রোহী তকমাও শুনতে হয়েছে শাহীনবাগের আন্দোলনকারীদের। শাহিনবাগের অবরুদ্ধ রাস্তা খুলতে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দাখিল হয়েছে। নন্দকিশোর গর্গ আর অমিত সাহানির হয়ে সেই মামলা দাখিল করেছেন আইনজীবী শশাঙ্ক দেও সুধী। কেন্দ্রকে এ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে ওই মামলায়।

ইতিমধ্যে শাহিনবাগ অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই প্রতিনিধি দলে আছেন আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে, সাধনা রামচন্দ্রণ আর প্রাক্তন সিআইসি ওয়াজাহাত হাবিবুল্লা। যদিও, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের পরেও কাটেনি অচলাবস্থা।