টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আবার প্রশ্ন তুললো কংগ্রেস। বিজেপিও তুলেছে। অনেকেই এনআরসি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি উন্নীতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেছে কাছাড় জেলা কংগ্রেস। এর জন্য দায় এড়াতে পারে না রাজ্য সরকার, বলে মত ব্যক্ত করলেন কাছাড় কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রদীপ দে। তার মতে, এখন জনগণের নজর অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে কোনও কসরত বাকি রাখছে না সর্বানন্দ সােনােয়াল নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। ক্ষমতাসীন দলের এক একজন নেতা এক – এক ধরনের মন্তব্য করছেন।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ দে বলেন, নাগরিকপঞ্জির তালিকায় প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম থাকতে হবে। সে হিন্দু হােক অথবা মুসলিম। তিনি বলেন , প্রথম দিকে যেসব নথি গ্রাহ্য করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শেষদিকে অনেক ক্ষেত্রে সেসব নথি রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোন্ ভিত্তিতে, কার ইশারায় এসব হয়েছে এ নিয়েও রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে কংগ্রেস। একই পরিবারের ভাইয়ের নাম তালিকায় থাকলেও নেই বােনের নাম। আবার মা – বাবার নাম থাকলেও নেই সন্তানের নাম। এর অর্থ কী ? এ ছাড়াও নামের বিভ্রান্তি নিয়ে বারবার সংশােধনী দিয়েও কাজ হয়নি অনেকেরই। এভাবেই অজস্র ত্রুটি রয়েছে তালিকায়। এত টাকা খরচ করে যা হল , তা অশ্বডিম্বেরই নামান্তর। আজকাল পত্র – পত্রিকায় দেখা যায় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক কথা বলছেন, আবার রাজ্য সরকারের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলছেন অন্য কথা। কাছাড় জেলায়ও একই অবস্থা শাসক দলের নেতাদের। সাংসদ বলছেন এক কথা, আবার বিধায়ক বলছেন অন্য কথা।

প্রদীপবাবুর কথায় , শিলচরের সাংসদ বলছেন জাতীয় নাগরিকপঞ্জির নামে এত বেশি অর্থ ব্যায়ের পর এমন ফল আশা করা যায়নি। তাই এখন দলের উচিত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার মত সরকারি কোনও তৃতীয় এজেন্সি দিয়ে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা পুনঃপরীক্ষা করার আর্জি সুপ্রিম কোর্টে জানানাে। অবশ্যই প্রতীক হাজেলাকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে। জেলা কংগ্রেস সভাপতির প্রশ্ন, এর কী অর্থ থাকতে পারে। তাদের সরকারের সময়ে পুরাে প্রক্রিয়া চলছে। তাই সরকারি কোনও তৃতীয় এজেন্সি দিয়ে এনআরসি – র চূড়ান্ত তালিকা পুনঃপরীক্ষা করার মানে কি। আসলে নির্বাচনের আগে জনগণকে ভুল বুঝিয়ে ভােট বৈতরণী পার হয়েছেন। আর ক্ষমতায় বসার পর সংবাদপত্রে আলটপকা মন্তব্য করছেন। জনগণের সঙ্গে এমন ভাওতা মেনে নেবে না কংগ্রেস।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, বিজেপি সব সময়ই ধর্মের নামে রাজনীতি করে। যে সময় এনআরসি – ছুটরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন সে সময় শিলচরের বিধায়ক হিন্দু – মুসলিম কার্ড খেলছেন। বলছেন ‘ এনআরসি হয়ে দাঁড়িয়েছে হিন্দুদের জন্য অভিশাপ। আর এক বড় অংশের মুসলমানের জন্য আশীর্বাদ। প্রদীপবাবুর মতে, শাসক দলের হয়ে এ ধরনের ধর্মীয় কার্ড না খেলে এনআরসি – ছুটদের পাশে দাঁড়ানাে উচিত। কংগ্রেস সব সময় জনগণের পাশে আছে, আর থাকবেও। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, এনআরসি নিয়ে এখন হিমসিম খাচ্ছেন শাসক দলের নেতারা। তবে এনআরসি – ছুটদের আইনি সহায়তা দেবে জেলা কংগ্রেস। দলের একটাই দাবি, বৈধ সব ভারতীয়র নাম তালিকায় স্থান দিতে হবে। যুগশঙ্খের খবর।