টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দেশের প্রাক্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী রাজীব গান্ধির মূৰ্তিকে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল উত্তরপ্রদেশের মিৰ্জাপুর শহরে। এই ঘটনায় কংগ্রেসের তরফে তীব্ৰ বিক্ষোভ প্ৰদৰ্শন করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্ৰী যোগী আদিত্যনাথ যেদিন মিৰ্জাপুর শহরে এলেন, তার ঠিক পরের দিনই এই ধরনের ঘটনা ঘটল। এটা কাকতালীয় হতে পারে না।” এই ঘটনায় কাতরা পুলিশ স্টেশনে শহরের কংগ্রেস সভাপতি আবদুল ওয়াজিদ একটি এফআইআরও দায়ের করেন। এই ইস্যুতে রাজ্যপাল রাম নায়কের সঙ্গে দেখা করেন দলের মুখপাত্র রাজী বাবর । রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘রাজীব গান্ধির মূৰ্তি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। রাজ্যপাল তামাদের আস্বস্ত করেন, যে বা যারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে। এর পাশাপাশি ওই একই স্থানে একটি নতুন মূৰ্তি তৈরি করে দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে তাকে। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুস্কৃতীদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এরপর রাজ বব্বর রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্ৰকাশ করে বলেন, ৪৮ ঘণ্টা কেটে
গেলেও কোনও পদক্ষেপই নেয়নি পুলিশ। এমনকী রাজ্যপালের কাছেও অভিযোগ জানানোর পরও কেন তদন্ত শুরু হল না ? পাশাপাশি তার হুমকি, সরকারের তরফে কোন পদক্ষেপ গ্ৰহণ নাকরা হলে, তারা বড়সড় আন্দোলনের পথে যাবে। ঠিক কবে ঘটল এই ঘটনা ? আসলে অতিসম্প্ৰতি দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ক্ৰমবৰ্ধমান আক্ৰমণের
ঘটনা, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বৰ্তমান সম্পৰ্কের নিরিখে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করার জন্য কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আযাদ দলের উত্তরপ্ৰদেশ শাখার পক্ষ থেকে একটি লিফলেট প্ৰকাশ করেন। সেই লিফলেট ঘিরেই শুরু হয় বিতৰ্কের। গত শনিবার রাতে টুইটারে একটি পোস্টে দেখানো হয় যে ওই লিফলেটে প্ৰকাশিত
ভারতের মানচিত্ৰে কাশ্মীরকে “ভারত অধিকৃত কাশ্মীর’ বলে লেখা হয় । বিজেপি এর তীব্ৰ
নিন্দা করে বলে, এই ধরনের কাৰ্যকলাপের মধ্য দিয়েই বোঝা যায় যে পাকিস্তানের প্রতি
পৃষ্ঠপোষকতামূলক আচরণে কংগ্রেস নেতাদের হৃদয় উজ্জ্বল হয়। ঘটনার ভুল স্বীকার করে কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন বলেছেন, “এটা ছাপার ভুল। এর সব দায় মেনে নিয়ে আমরা এর জন্য ক্ষমা চাইছি। এই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, দল তার খেয়াল রাখবে।”