টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বার বার মুসলমান বিরোধী মন্তব্য করা অর্থমন্ত্রী এবার রোষের মুখে পড়েছেন রাজ্যের মুসলমান সমাজের। অসমে বসবাস করা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে থাকা প্রাচীন সম্পর্ক নষ্ট করতে তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্রভালি সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে মুসলমান বিরোধী মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক শেখ আব্দুল মান্নান, ডাক্তার আতিকুর রহমান সহ মুসলমান সমাজের বিশিষ্টরা।

হাফিজ রশিদ এদিন বলেন, মুসলমানদের নিয়ে হিমন্ত যে ধরনের মন্তব্য করছেন তা সংবিধান বিরোধী। ফলে এমন ব্যাক্তির এক মুহূর্তও মন্ত্রী হয়ে থাকার অধিকার নেই। পুলিশের উচিৎ হিমন্তের বিরুদ্ধে নিজ থেকে ইজারা দাখিল করা। তার এখন মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।

এখানেই থেমে থাকেননি চৌধুরী।তার কথায়,সাত পুরুষ ধরে থাকা হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত নেমেছেন হিমন্ত। নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিলকে সমর্থন করতে গিয়ে মুসলমানদের জিন্না এবং বদরুদ্দিন আজমল এর সঙ্গে তুলনা করে শান্তি শৃঙ্খলা শেষ করে দিতে চাইছেন তিনি।হিমন্ত বলেন, জিন্নার পরিবারকে বহিষ্কার করতেই নাগরিক পঞ্জি নবায়ন করা হচ্ছে। এসব কথা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।তাঁর এমন কথা বলার কোন অধিকার নেই। তবে রাজ্যবাসীকে এখন হিমন্তের থেকে সাবধানে থাকতে হবে। না হলে বড়সড় দাঙ্গা বাঁধাতে পারেন তিনি।

আব্দুল মান্নানের গলায়ও এদিন একই সুর শোনা গেছে। হেমন্তর মুসলিম বিরোধী মন্তব্য শান্তি সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট, বলে মনে করেন তিনি। বলেন ক্ষমতায় বসে অসমে ৩৪ শতাংশ মুসলমান কে উৎখাত করার কাজে লেগেছে সরকার আর এই চক্রান্তের মূল নায়ক হিমন্ত।তিনি বলেন, ইতিহাসের কোন জ্ঞান নেই অর্থমন্ত্রীর। তাই বারবার এ ধরনের মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তার কথায় অসমের একজন মুসলমানও ভারতীয় মূলের নয়। শত শত বছর আগে থেকে এ রাজ্যে বসবাস করা মুসলমানরাও হিমন্তের চোখে আজ বিদেশি।