টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশ থেকে করোনা সংক্রমণের জেরে গোটা দেশেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির গোষ্ঠী-সংঘর্ষ বিধ্বস্ত মুস্তাফাবাদে এর প্রভাব পড়ছে অন্য ভাবে। এখানকার বাসিন্দাদের বড় অংশের অভিযোগ, নিজামুদ্দিনের তাবলীগ জামাতের ধর্মীয় সমাবেশ থেকে করোনা সংক্রমণের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই মুস্তাফাবাদ এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। লকডাউন অগ্রাহ্য করে দিনে-রাতে বাড়ি বাড়ি চড়াও হয়ে হুমকি দিচ্ছে বহিরাগতরা। টাকা চাওয়া হচ্ছে, না পেলে বাড়ির লোকেদের অপহরণ, এমনকী ভাইরাস ছড়ানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। গত দু’দিন ধরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, মৌখিক ভাবে স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় মহিলাদের।

পুলিশে খবর দিলে হিতে বিপরীত হবে, তেমন হুমকিও শুনতে হচ্ছে। অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতির। দিল্লি পুলিশের অবশ্য দাবি, এমন তথ্য নেই তাদের কাছে। এক শীর্ষকতার মন্তব্য, লকডাউনের সময়ে গোটা দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যা নেই। এই বিষয়ে পুলিশের কাছে লিখিত ভাবে কোনও অভিযোগ যে জানানো হয়নি, অকপট এলাকাবাসী। তাঁদের বক্তব্য, সেটা করা হয়নি ভয়েই। আগের অভিজ্ঞতাও তো ভালো নয়। লকডাউনের মধ্যেই মুস্তাফাবাদের ইদগাহর ত্রাণ শিবিরও তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজেদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের বাড়ি যেগুলি টিকে রয়েছে, সেগুলিতেই কোনও রকমে আশ্রয় নিয়েছেন|

ফেব্রুয়ারির গোষ্ঠী-সংঘর্ষে ঘর-হারা এলাকার মহিলারা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই সমস্যা শুরু হয় দিন দুয়েক আগে। রাতের দিকে এলাকায় প্রচুর লোককে দেখা যাচ্ছে বাইকে টহল দিতে। অনেকের হাতেই লাঠি, রড। এরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে শাসাচ্ছে। কোনও বাড়ি থেকে ৫০০০, কোনও বাড়ি থেকে ২০০০ টাকা চাইছে। অপহরণ, ভাইরাস ছড়িয়ে ক্ষতিরও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রুকসানার মতো এলাকার মহিলাদের অনেকের। পুলিশে লিখিত অভিযোগ করলেও তাঁরা নিজেদের সাম্প্রতিক ভয়ের অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁদের আশা, সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা দেখেই তো ব্যবস্থা নিতে পারে প্রশাসন। (সৌজন্য- এই সময় পত্রিকা)