টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ক্রমবর্ধমান করোনা ভাইরাস রুখতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বার্তা দিলো জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম জানান, “সমগ্র পৃথিবীতে করােনা ভাইরাস নামে যে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে নিঃসন্দেহে করুণাময় আল্লাহ তাবারকতায়ালার পক্ষ থেকে সকলের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। এই কঠিন বালা-মুসীবত থেকে রেহাই পেতে হলে তওবা-ইস্তেগফার (অনুতাপ-অনুশােচনা) খুবই জরুরী। বিশ্বস্রষ্টার দরবারে প্রাণভরে মােনাজাত করে এই মহামারি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করাই হল মুখ্য বিষয়। তাদের কথায়, ইসলাম ধর্মের মধ্যে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনাে ব্যক্তি কঠিন রােগে আক্রান্ত হলে সেই সংক্রমণের ফলে অন্য ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন সেক্ষেত্রে নিজে এবং অপরকে এই দুরারােগ্য সংক্রমণ থেকে বেঁচে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রামক রােগের কারণে একে অপরের কাছাকাছি বসা বা থাকা, হাত মেলানাে, কিছু স্পর্শ করলে অন্য কেউ যেন স্পর্শ না করে তা নাহলে রােগ বৃদ্ধি পায়। যেখানে মানুষের ভিড় হয় ওখানেও এই মহামারি দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে এর আশঙ্কাও বিশিষ্টজনেরা করেছেন। এদিন ইবাদত- বন্দেগী, জামাত-নামায ও চলাফেরার সুনির্দিষ্ট বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে জমিয়তের পক্ষ থেকে জনতার কাছে আহবান করে জানানো হয়, সরকার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগ কোভিড – ১৯ থেকে বাঁচার জন্য যেসমস্ত সতর্কতামূলক নির্দেশ দিয়েছে তা শরীয়তের হুকুম মেনে ও সতর্কবার্তার বিষয়ে সজাগ থাকা, শরীর – স্বাস্থ্য এবং ঘরবাড়ির পরিচ্ছন্নতা, সন্দেহযুক্ত রােগীদের সাথে মেলামেশা থেকে সতর্ক থাকা, মসজিদের মধ্যে ফরজ নামাজের জন্য আযান ও জামাত হবে কিন্তু বাকি সুন্নত ও অতিরিক্ত নফল নামায নিজ নিজ বাড়িতেই আদায় করার আহবান জানান। পাশাপাশি জুমআর দিনের আগেই মসজিদের প্রস্রাবখানা, ওযুর স্থান, প্রবেশের দরজা, বের হওয়ার রাস্তা, সবকিছুই ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করা ও জুমআর দিন বাড়ি থেকে ওজু – গােসল করে মসজিদে এসে ইমাম সাহেবের খুতবা পাঠ এবং জুমআর নামাজ অল্প সময়ে আদায় করে বাড়ি গিয়ে সুন্নত নফল পড়ার আহবান জানান হয়। ওই জমিয়ত নেতাদের আরো পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাড়িতে ধােওয়া বস্ত্র, রুমাল বা মাস্ক দিয়ে নাক – মুখ ঢেকে মসজিদে আসার অভ্যাস, পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা বিডিও অফিস থেকে স্যানিটাইজার সংগ্রহ করে অথবা মসজিদ কমিটির ব্যবস্থাপনায় তাতে বা জীবাণুনাশক সাবানে হাত ধুয়ে মসজিদে প্রবেশ, সাদকা, খয়রাত করতে হবে।