টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ‘ বিয়ে তো অপেক্ষা করতেই পারে। কিন্তু যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীর সঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের আমি অপেক্ষা করিয়ে রাখতে পারি না। কারোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে এমনই মন্তব্য করলেন কেরেলের এক তরুণী চিকিৎসক শিফা এম মুহাম্মদ। গত ২৯ মার্চ দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠিত এক সুপাত্রের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে করোনা সারাবিশ্ব সহ ভারতে মহামারির আকার ধারণ করেছে। কঠিন এই সময়ে চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী সকলেই নেমে পড়েছেন জীবনযুদ্ধের ময়দানে। এই পরিস্থিতিতে বিয়ে! ভাবতেই পারছেন না বছর ২৩ – এর চিকিৎসক শিফা। গুরুজনদের জানিয়ে দেন, “ বিয়ে তো অপেক্ষা করতেই পারে। কিন্তু যারা করোনায় আত্রান্ত হয়ে জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন তাদের আমি অপেক্ষা করিয়ে রাখতে পারি না।”

এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন তার পরিবার। শুধু তাই নয়, সিদ্ধান্তকে সম্মান ও সমর্থন কারেছেন তার হবু স্বামীও। বাস, তারপর পিছিয়ে দেওয়া হয় বিয়ে! ২৯ মার্চ কনের সাজে নয় বরং তার পোশাক পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুপমেন্ট (পিপিই)। বিয়ের আসর নয়, তার বদলে কান্নুরের পারিয়াল্লাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে কোভিড় – ১৯৯ ‘ এ আক্রান্তদের লাগাতার সেবা করে চলেন শিফা। তবে তা নিয়ে তার বন্ধুরা কিন্তু বেশ ঠাট্টা – মজা করেছেন বলেও জানান শিফা।

তার কথায়, “ আমার কয়েকজন বন্ধু তো মজা করে বলে, বিয়ের দিন আমি নিজের সেরা পোশাকটাই (পিপিই) পরেছিলাম। আর আমি নিজের রোগীদের সেবা করতে সবসময়েই পছন্দ করি। বিয়ে পিছিয়ে সমাজের সাহায্যে যেভাবে নেমেছেন শিফা, তার জন্য যদিও এতটুকু গর্বিত নন তিনি। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাো অসাধারণ কিছু করিনি। আমি শুধু নিজের দায়িত্বটুকু পালন করছি। আমার মতো অনেকেই বিয়ে পিছিয়ে দিয়েছেন।

আর শিফার বাবা – মা কী বলছেন? মেয়ের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো গর্বিত তারাও। শিফার বাবা মুক্কান মুহাম্মদ বলেন, সব মেয়ের জীবনেই এটা একটা গুরুরপূর্ণ অনুষ্ঠান। কিন্তু শিফা সামাজিক দায়িত্ব ও পেশাদারি দায়বদ্ধতা পালন করেছে। আমি সমাজকর্মী ও স্ত্রী শিক্ষিকা। আমার ২ মেয়ের মধ্যে সেই আদর্শ সঞ্চারিত হয়েছে। আমি শিফার জন্য গর্বিত। (সৌজন্য- পুবের কলম)