টিডিএড বাংলা ডেস্ক : নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত দুই জুনিয়র ডাক্তারকে নিগ্রহহের প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়লো আসামের শিলচরেও। শুক্রবার সকালে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের আড়াই হাজার শাখার সঙ্গে কাছাড় শাখা শিলচরও প্রতিবাদ দিবসে ধর্ণা প্রদর্শন করেছে।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ওইদিন সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত চিকিৎসকেরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ দিবস পালন করে। প্রত্যেকের পোশাকে সাটা ছিল কালো ব্যাজ। মেডিক্যাল ছাত্র আর জুনিয়র ডাক্তাররা ধর্ণা প্রদর্শনে সামিল হয়েছিল জেলা শাসকের কার্য্যালয়ের সামনে। প্রতীকী আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে স্বারকলিপি পেশ করা হয়। এদিন তাদের প্ল্যাকার্ডে লিখছিল, “আমরা ডাক্তার, নই ভগবান, নই মোরা শয়তান, প্রয়াস চালিয়ে যাই, গেয়ে জীবনের গান।” অন্য প্ল্যাকার্ডে আমরা দেখতে পাই, “ডাক্তারদের প্রতি হিংসা বন্ধ হোক, ভয়ের বৃত্তে থেকে ডাক্তাররা কাজ করতে পারবেন না।”

ডাক্তারদের দাবি তারা কেন বার বার চিকিৎসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হবে। তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। ধর্ণায় অংশ নিয়ে আইএমএর কাছাড় ব্রাঞ্চের সভাপতি ড. এম মাসুম সহ ড. অরুণ কুমার ভট্টাচার্য, ড. গিরিধারী কর, ড. অখিল পাল, ড. পি কে চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন। আন্দোলন চলার সময় ডাক্তার দেবাঞ্জনা দত্ত মজুমদার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শিবসুন্দরী নারী সেবাশ্রমে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এছাড়াও আরও অনেক ডাক্তার এই আন্দোলনে অংশ নেন। ছিলেন মেডিক্যাল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউনিয়নের পক্ষে সুপ্রিয় ভট্টাচার্য সহ আরও কয়েকজন।

ধর্ণায় যোগদান কারীরা বলেন, কলকাতা এনআরএস এর ইন্টার্ন পরিবুহ মুখোপাধ্যায় ও যশ টেকওয়ানী যেভাবে উন্মুক্ত মারমূখী রোগীর পরিজনের হাতে মার খেয়েছেন তা বর্বরিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সেই সঙ্গে তারা আরও শুনিয়েছেন রোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার আপ্রাণ চেষ্টার জবাব হিংসা হতে পারেনা। ডাক্তাদের সুরক্ষার নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে, যাতে এমন ঘটনা বন্ধ হয়। এমন চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম চিকিৎসক হওয়ার, রোগীদের সেবা করার ইচছা হারিয়ে ফেলবে, তা আর বেশিদিন নেই। (সূত্র: যুগশঙ্খ)