টিডিএন বাংলা ডেস্ক : কেন্দ্র সরকারের মরজিমাফিক কাজের ধারাবাহিকতা যেন থামার নামই নিচ্ছেনা। সেই ধারা অব্যাহত রেখে এইবার মোদী সরকার হাত বাড়িয়েছিল খাদি এবং গ্রামোদ্যোগ আয়োগের (কেবিআইসি) ২০১৭ ক্যালেন্ডার এবং ডায়েরীর দিকে। ক্যালেন্ডারে মহাত্মা গান্ধীর ছবির বদলে লাগানো হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বিবাদে আজ মুখ খুললেন কংগ্রেস উপাধ্যক্ষ রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ কেজরিওয়াল ট্যুইট করে বলেন, “গান্ধী হওয়ার জন্য অনেক বছর তপস্যা করতে হয়। কেউ চরকা চালানোর নাটক করে গান্ধী হতে পারেনা।” অন্যদিকে মমতা নিজের ট্যুইটে বলেন, “চরকা ও মহাত্মা গান্ধীর মহান প্রতীকের বদলে এবার মোদীবাবুর ছবি দেওয়া হয়েছে। খাদির ক্যালেন্ডার ও ডায়েরিতে মহাত্মা গান্ধীর বদলে মোদীর ছবি। গান্ধীজি জাতির জনক। মোদীজি কী ?”
পিছিয়ে থাকেননি সোনিয়া পুত্র রাহুলও। তিনি নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে লেখেন, “এটা মঙ্গলায়ণের প্রভাব।” রাহুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মঙ্গলে ভারতের মহাকাশযান পাঠানোর কৃতিত্ব নিতে চাইছেন, সেভাবেই বোঝাতে চাইছেন, তাঁর জন্যই খাদি জনপ্রিয় হয়েছে।
উল্ল্যেখ্য যে, ক্যালেন্ডার এবং ডায়েরীতে মোদীর ছবি দেখে কেবিআইসির অধিকাংশ কর্মচারী এবং আধিকারিকগন হত বিহ্বল হয়ে পড়েন। সরকারী কর্মচারী হওয়ার কারণে বিরোধিতা করতে না পারলেও, মধ্যাহ্নভোজনের সময় তারা কিছুই মুখে তোলেননি। সমস্ত কর্মীরা আয়োগের অফিসের সামনে গান্ধীমূর্তীর পাদদেশে মুখে কালো কাপড় বেধে আধঘণ্টা এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেন। এর আগে যে স্টাইলে গান্ধীর ছবি থাকত ঠিক সেই স্টাইলেই মোদীর ছবি লাগানো হয় ক্যালেন্ডার এবং ডায়েরীতে।
কেবিআইসি অধ্যক্ষ বিনয় কুমার সাক্সেনা মিডিয়াকে বলেন, “এটা কোন চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা না, অতীতেও এধরনের পরিবর্তন হয়েছে।”