টিডিএন বাংলা ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচন এবং অসমের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্ষমতায় এলে দেশভাগের বলি হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। অসমের বিপুল সংখ্যক বাঙালি হিন্দুদের ভোট এককাট্টা করতে ২০১৪ এবং ২০১৯ – এর লোকসভা নির্বাচনে এবং ২০১৬ – র বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি , অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির ছোট – বড় সব নেতাই।

গেরুয়া শিবিরের প্রতিশ্রুতি শিরোধার্য করে হাত উজাড় করে ভোট – সমর্থন দেয় বাঙালি হিন্দুরা। কিন্তু ক্ষমতা দখলের পর সম্পূর্ণ উলটো ছবিটা দেখতে পাচ্ছে অসম। বিস্তর ঢাক – ঢোল পিটিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করা হল। সারাদেশ এই আইনের প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও বিজেপিকে বিশ্বাস করে একমাত্র অসমের বাঙালি হিন্দু শরণার্থীরা বিতর্কিত এই আইনকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নতুন করে এনআরসি তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

দিন কয়েক ধরে অসমে বসবাসকারী বাঙালি হিন্দুদের কাছে নতুন করে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে ডি – ভোটারের তকমা। বিদেশি নোটিশ , ডি – ভোটার নোটিশ কিছুদিন ধরে বন্ধ থাকার পর আবার নতুন করে এই উৎপাত বাঙালি হিন্দুদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসমের হিন্দু – বাঙালিদের ডি – ভোটারের তকমা দিয়ে হয়রানি করার খবর উঠে আসছে বিভিন্ন স্থান থেকে। শুধু তাই নয় , পূর্বের ‘ ডি ’ ভোটারের মামলার দোহাই দিয়ে সীমান্ত পুলিশের তরফ থেকে দেদার নোটিশ জারি করার খবর মিলছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে এমনও জানা গিয়েছে , ২০০৯ , ২০০৩ , ২০০৮ , ২০১৩ সালগুলিতে জারি করা নোটিশ নিয়ে সীমান্ত পুলিশ এবং বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে নগাঁও , বঙ্গাইগাঁও , মরিগাঁও , ধুবড়ি ইত্যাদি জেলায় হিন্দু বাঙালির বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিদেশি সন্দেহের নোটিশ।

বঙ্গাইগাঁও জেলার অভয়াপুরি ইক্রাবাড়ি এলাকায় গত কয়েক দিনে ৫০ জনকে এমন সন্দেহভাজন বিদেশি নোটিশ ধরানো হয়েছে। অসম সরকারের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে। এইভাবে সরকারি ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ায় বাঙালি হিন্দুরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ডিটেনশন ক্যাম্পে কাউকে ৩ বছরের বেশি রাখা যাবে না। অথচ ডিটেনশন ক্যাম্পে ৩ বছরেরও বেশি সময় কাটানো বহু বাঙালি বন্দি ভারতীয় জামিনদারের উপযুক্ত ঠিকানার অভাবে এখনও পড়ে রয়েছেন ডিটেনশন ক্যাম্পে।

এ দিকে রাজ্যে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে ডিটেনশন ক্যাম্পে আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে কলকাতার পার্ক সার্কাসের আদি বাসিন্দা প্রৌঢ় আসগর আলিকে। তার ৮৫ বছরের অসুস্থ আব্বা মুহাম্মদ জারিফ সহ পরিবারের লোকজন এখন তার মুক্তি অপেক্ষায় আছেন। এমতাবস্থায় নতুন করে ডি – নোটিশ দেওয়ার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অসমে নানা প্রান্তে বসবাস করা বাঙালিদের মধ্যে। বিশেষ করে অপার বাংলা থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যে।

সৌজন্য- পুবের কলম