টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ইদানীং প্রতিদিন একটাই প্রশ্ন মাথায় ঘোরে তাঁর, “কাল পৃথিবীতে থাকবো তো?” প্রতিবারই তিনি তাঁর ঘরে ফিরে সদর দরজা ডবল চেক করে নেন। ইনি হলেন ৩৮ বছর বয়স্ক অ্যাডভোকেট দীপিকা সিং রাজাওয়াত। যিনি একজন আইনজীবী, একজন সমাজকর্মী ও সর্বোপরি ছয় বছর বয়সী এক মেয়ের মা। তাই নিজের মেয়ের বয়সী কাউকে নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনি সুবিচারের জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু আজ তাঁকে প্রতিদিনই যুদ্ধ করতে হচ্ছে মৃত্যুভয়ের সঙ্গে।

কাঠুয়া ধর্ষণ কাণ্ডে ভিক্টিমের সুবিচারের জন্য তিনি আইনী লড়াই চালাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর জীবন এখন বিপদে। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত যে তারা আমাকে শীঘ্রই হত্যা করবে।” তিনি তাঁর ছয় বছরের মেয়ে, তাঁর স্বামী এবং নিজেকে নিরাপত্তার জন্য ভীত। কাঠুয়া ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করার পর থেকে ২৪ ঘন্টা সতর্কতা তাঁর জীবনের এক অংশ হয়ে উঠেছে।

কাঠুয়া মামলাটি গ্রহণের পর তাকে অনেক ধর্ষণ ও মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি থাকার ফলে রাজ্য পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিয়েছিল। কিন্তু তা হয়ত যথেষ্ট নয়। তার সাথে সাথে মামলার প্রায় ১০ মাস পর তিনি পাশে কাউকে পাচ্ছেন না। নানা হ্যারাশমেন্টের সাথে সাথে প্রতিবেশীরাও তাঁদের একঘরে করে রেখেছে। প্রতিবেশীরা তার পিতামাতার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে।

তা সত্ত্বেও তিনি জানান, “আমি একজন মহিলা, একজন মা, আইনজীবী এবং একজন কর্মী। এই কারণে এই ক্ষেত্রে যুদ্ধ যথেষ্ট। তার চেয়েও বেশি আমি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক, যিনি ভালো এবং খারাপের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত যে তারা আমাকে শীঘ্রই হত্যা করবে। “