টিডিএন বাংলা ডেস্ক:  নির্মমভাবে এক দলিত ছাত্রকে মারের ঘটনা সামনে এল। ঘটনাস্থল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাট। ওই ছাত্রের অপরাধ সে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। এই কারণ সমাজের তথাকথিত `মাতব্বর’দের হাতে তাঁকে বেধড়ক মার খেতে হয়। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এ কোন সমাজে বাস করি আমরা? প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। সেই সঙ্গে দাবি উঠছে, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

দলিত পরিবারের ছেলে হয়েও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডপরীক্ষা দিতে গিয়েছিল সে। এই ‘স্পর্ধা’ সহ্য হয়নি সমাজের একাংশের। তাই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে গাছে বেঁধে মারধর করা হল ১৭ বছরের দলিত পড়ুয়াকে। আতঙ্কে সেদিন পরীক্ষা না-দিয়েই বাড়ি ফিরে এসেছিল ছেলেটি। কিন্তু সারা শরীরে মারের ক্ষত ঢাকতে পারেনি। বাড়ির লোক সবকিছু জানার পর থানায় এফআইআর দায়ের হয়। সরকারি বাসের কন্ডাক্টর রমেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিল ছেলেটি। কিন্তু প্রমাণাভাবের যুক্তিতে রমেশকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর দুই ভাইকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলিত পড়ুয়াটি পুলিশি নিরাপত্তায় পরের পরীক্ষাগুলো দিলেও আতঙ্ক কাটছে না।

ঘটনাটি গুজরাটের পাটান জেলার ছানাসমা তালুকের গোরাদ গ্রামের। গত ১৮ মার্চ দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা দিতে ছানাসমায় পৌঁছয় ওই পড়ুয়া। আদতে ছানাসমার বাসিন্দা হলেও প্লাইউড ফ্যাক্টরিতে কাজের সুবাদে মেহসানায় থাকে ছেলেটির পরিবার। বাবা পথ দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়ার পর মা-ই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। সেই পরিবারের ছেলের কথায়, ‘সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ সরকারি বাসে আমি মেহসানা পৌঁছই। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে রমেশ অপেক্ষা করছিল। বলল, আমার সঙ্গে নাকি কিছু কথা আছে। কাছেই মোটরসাইকেলে ছিল একজন। সেই মোটরসাইকেলে তুলে ওরা আমাকে গোরাদ গ্রামে নিয়ে যায়।’ ছাত্রটির দাবি, পরীক্ষা হলে ঢুকতে দেরি হয়ে যাবে বলে অনেক অনুনয়-বিনয় করেছিল, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ফিরিয়ে দেবে, এ কথা বলে ছেলেটিকে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ছেলেটির কথায়, ‘লোকদুটো আমাকে গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারতে আরম্ভ করে। কেন মারা হচ্ছে, প্রশ্ন করলে আরও বেশি মারা হয়। আমার জাত তুলে উল্টোপাল্টা কথা বলে। বলে, আমার পড়াশোনা করা, পরীক্ষা দেওয়া উচিত নয়, বরং কায়িক শ্রমের কাজ করা উচিত।’ ছেলেটির পরিবারের দাবি, সেদিন পরীক্ষা না-দিয়েই বাড়ি ফিরেছিল সে।

একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছিল, উচ্চবর্ণের একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই ছেলেটিকে মারধর করা হয়েছে। তার মায়ের অবশ্য দাবি, ‘আমার ছেলেকে খাটো করতেই এ-সব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’ পুলিশের দাবি, রমেশ প্যাটেল সেদিন ডিউটিতে ছিল। তাই তাকে গ্রেপ্তার না-করে অভিযুক্ত হিসেবে তার ভাই মহেন্দর ও মামাতো ভাই হর্ষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিত পড়ুয়া শুক্রবার পুলিশি ঘেরাটোপে ওই পরীক্ষাকেন্দ্রেই পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। ফিরতে হয়েছে হাসপাতালে। কারণ এখনও সে আতঙ্কের ঘোরে রয়েছে। শরীরে ক্ষতচিহ্ন। ছেলেটির বাড়ির বাইরে বৃহস্পতিবার থেকে দু’জন কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়েছে।