টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় দিল্লি পুলিশ রিডিং রুমের ভিতরে প্রবেশ করে এবং ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করে। ঘটনার দু’মাস পরে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সেই ঘটনার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ। ৪৯ সেকেন্ডের একটি ক্লিপে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো পঠন কক্ষে বসে রয়েছেন পড়ুয়ারা। অকস্মাৎ সেখানে প্রবেশ করে পুলিশ। পুলিশ লাঠি দিয়ে পড়ুয়াদের মারতে থাকে।

অন্য একটি ভিডিও তে দেখা যায়, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা। পড়ুয়ারা একে একে বাইরে বার হচ্ছেন। কিন্তু সরু দরজা দিয়ে এক সঙ্গে অনেকে বেরোতে গিয়ে জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। তখনই শুরু হয় মারধর। বিশেষ করে ভিডিয়োর শেষ ২০ সেকেন্ড কার্যত ভয়ঙ্কর। পড়ুয়ারা গাদাগাদি হয়ে পড়ে আছেন। কেউ ছুটে পালানোর চেষ্টা করছেন। ওই অবস্থাতেই পড়ুয়াদের যাঁকে সামনে পাচ্ছেন, তাঁকেই নির্বিচারে লাঠিপেটা করছেন দিল্লি পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই জায়গাটা ফাঁকা হয়ে যায়। তার পর এক দিল্লি পুলিশের কর্মীকে দেখা যাচ্ছে, লাঠি দিয়ে সিসিক্যামেরা ভেঙে দিচ্ছেন।

কিন্তু একটি সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেলের হাতে ‘এক্সক্লুসিভ ফুটেজ’ তুলে দিয়ে দিল্লি পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট প্রমাণ করার চেষ্টা করল, ১৫ ডিসেম্বর রাতে হাতে পাথর নিয়ে রিডিং রুমে ঢুকেছিল জামিয়ার পড়ুয়ারা। কিন্তু ‘ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট অল্ট নিউজ’‌ সেই ‘ফুটেজ’ই পরীক্ষা করে জানিয়ে দিল, যাকে পাথর বলা হচ্ছে, সেটা আসলে ‘মানি ব্যাগ’ বা ‘ওয়ালেট’।

এমনকি দিল্লি পুলিশ এটাও প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে পুলিশ শুধু শুধু লাঠি চালায়নি। ছাত্রদের হাতে পাথর ছিল, যা নিয়ে তারা তাণ্ডব চালাচ্ছিল। সেই ক্লিপ বেশ কয়েকটি হিন্দি ও ইংরেজি চ্যানেল দেখায়ও। সেই ক্লিপিং দেখিয়ে তাদের দাবি, এক ছাত্রের দু হাতেই পাথর দেখা যাচ্ছে কিন্তু ‘অল্ট নিউজ’ সেই একই ‘ক্লিপিং’ নিয়ে ‘স্লো ডাউন’ করে ‘ফ্রেম’ গুলিকে আলাদা আলাদা করে যাচাই করে দেখে, মোটেও পাথর নয়। ছাত্রের এক হাতে ‘ওয়ালেট’, আর এক হাতে সম্ভবত ‘মোবাইল ফোন’।

উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বরে দিল্লি পুলিশের তাণ্ডবের ভিডিও প্রকাশ্যে আসা মাত্রই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন বহু মানুষ। তীব্র নিন্দা জানান বলিউড পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। পড়ুয়াদের উপরে পুলিশের নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তিনি টুইট করে লেখেন, ‘‌স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দিল্লি পুলিশ মিথ্যা বলেছিল যে তারা লাইব্রেরিতে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের মারধর করেনি। এই ভিডিও দেখার পরও যদি অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সরকারের মানসিকতা প্রকাশ্যে এসে যাবে।’‌