টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বিরুদ্ধে এবার পাল্টা মিছিল হলো দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ মিছিলে অংশ নিলেও প্রতিবাদী শহীদ-কন্যা গুরমেহের কৌর তা থেকে দূরে থেকেছেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীকে নিয়েই কদিন ধরে উত্তাল রাজধানী।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। দিল্লির রামজস কলেজে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বামপন্থী ছাত্রনেতা ওমর খালিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত বছর জেএনইউতে বামপন্থীদের মিছিলে এই ওমর খালিদই দেশদ্রোহমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওমরকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরুদ্ধে এবিভিপির পক্ষ থেকে রামজস কলেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মারধর করা হয় ছাত্রদের, ভাঙচুরও হয়। কলেজের দরজায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। এরই প্রতিবাদে সরব হয় বামপন্থী শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদ। উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষাক্ষেত্রের রাজনীতি।
কারগিল যুদ্ধের শহীদ ক্যাপ্টেন মনদীপ সিংয়ের মেয়ে গুরমেহের কৌর এ সময়েই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। লেডি শ্রীরাম কলেজের ছাত্রী গুরমেহের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখেন, ‘আমি এবিভিপিকে ভয় করি না। আমি একা নই।’ ছবিসহ এই টুইট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপিসহ দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলো ‘অতি বামপন্থীদের দেশবিরোধিতার’ বিরুদ্ধে সরব হয়। গুরমেহেরকে ধর্ষণ করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। শুরু হয় বিতর্ক।
গুরমেহের একই সঙ্গে ছবিসহ আরও কয়েকটি টুইট করেন। একটি ছবিতে দেখা যায় তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান আমার বাবাকে মারেনি, বাবাকে মেরেছে যুদ্ধ।’ এর পক্ষে-বিপক্ষেও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, রাষ্ট্র বা সংগঠনের জবরদস্তি হস্তক্ষেপ ইত্যাদি নিয়ে ছাত্রসমাজের পাশাপাশি সব মহলেই শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। প্রাক্তন ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেওয়াগ, অভিনেতা রণদীপ হুড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু, কিরণ রিজুজুরা সমালোচনায় বিদ্ধ করেন গুরমেহেরকে। শেওয়াগ টুইট করেন, ‘আমি নয়, আমার ব্যাট দুটো ৩০০ করেছে।’ অবশ্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষে এই তারকা ক্রিকেটার দাবি করেছেন, গুরমেহেরকে ইঙ্গিত করে তিনি ওই টুইট করেননি।
সমালোচকদের কেউ কেউ গুরমেহেরকে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত তাঁকে তুলনা করেন হিটলার ও লাদেনের সঙ্গে। এরপরই গুরমেহের জানিয়ে দেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ মিছিলে তিনি থাকছেন না। টুইট করে তিনি বলেন, ‘আমার যা বলার ছিল বলেছি। আর পারছি না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যাঁরা আমার সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁদের জানাই, আমি যথেষ্ট সাহস দেখিয়েছি।’