টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিজেপি  ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি সব কেমন যেন বদলে গেল। দলিত, মুসলমানের রক্তের পিপাসায় হঠাৎ ওদেরকে কেমন উন্মাদ করে তুলেছে। বিজেপি শাসিত ঝাড়খন্ডের শোভাপুরে বৃহস্পতিবার নৃশংশভাবে চার জনকে হত্যা করলো একদল নরপশু। মহম্মদ নয়িমের রক্ত-স্নাত দেহ ও তাঁর করজোড়ের করুণ আকুতি কোন কিছুই গলাতে পারেনি ওদের পাষাণ হৃদয়।
ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মর্মান্তিক দৃশ্য ; মোহাম্মদ নইম একদল গ্রামবাসীর কাছে হাত জোড় করে অনুনয়-বিনয় করছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে। অর্ধেক দেহ রক্তে রঞ্জিত। তার পরণের সার্টটাও ছিড়ে খান খান, প্যান্টের উপর অসংখ্য লাথির ছাপ। আর তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় তার বাবা সে যে নির্দোষ তা বোঝাবার ব্যার্থ প্রয়াস চালাচ্ছেন।
নয়িম ছিল সেই চার জনের মধ্যে একজন যাদেরকে শোভাপুরের কিছু লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে ছেলে ধরা সন্দেহে। অনুরুপ সন্দেহে প্রায় এক সপ্তাহে আগে আরো দুজন ব্যাক্তিকেও খুন করা হয়।
নয়িমের মৃত্যুকালীন দৃশ্য ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময়ের এক সাধারণ দর্জি কুতুবুদ্দিন আনসারির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যিনি গুজরাটের নৃশংশ্য সাম্প্রদায়িক হিংসার এক প্রতিকী ছবি হিসেবে প্রতিভাত হন। কিন্তু সে দিনের কুতুবুদ্দীন শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গেছিলেন। কিন্তু আজকের নয়িমের ভাগ্যটা ততটাও প্রসন্ন ছিলনা।
পূর্ব সিংভূমের ঘাটশিলার বাসিন্দা নয়িম তার চারজন সহযোগী গবাদিপশু ব্যাবসায়ীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে শোভাপুরের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।
স্হানীয় কিছু লোক টাটা-ছাইবাসা রোডে তাদের এসইউভি গাড়ি দাঁড় করিয়ে নয়িম সহ চার জনকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে এনে তাদের মেরে ফেলার পূর্বে চারঘন্টা ধরে তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায়।
নয়িমের হত্যার কিছু আগে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছায়। কিন্তু কোনরুপ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে ব্যার্থ হয়।
উত্তেজিত জনতা তাঁর উপর এই  পাশবিকতার প্রতিবাদে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নয়িমের সালা জালালুদ্দিন জানায় তার জামাইবাবু সদালাপী নিপাট ভদ্রলোক ছিলেন । তিনি তার সংসারিক দায়িত্বের প্রতিও যত্নবান ছিলেন ; তার সন্তানদেরকেও খুব আদর যত্নে রাখতেন।
প্রশাসনের তরফ থেকে দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণ হিসাবে দিতে চাইলে তা নিতে অস্বীকার করে নয়িমের পরিবার। তাদের দাবি মূখ্যমন্ত্রিকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের ন্যায্য বিচার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।