টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মাত্র ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দেশকে বিপদের মুখে ঠেকে দিচ্ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের ডেপুটি সুপার দাভিন্দর সিং৷ জঙ্গিদের তথ্যপাচার ও সাহায্যের অভিযোগে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর তদন্তে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এল৷ ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দাভিন্দর সিং জঙ্গিদের সাহায্য করত এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করত৷

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দু জন হিজবুল জঙ্গি আত্মসমর্পণ করছে৷ ওই জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার দেখভাল সে-ই করছে বলে দাবি করেছে দাভিন্দর৷ পুলিশ জানতে পেরেছে, দাভিন্দরের এই পরিকল্পনার কথা জানেনই না পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা৷

ওই জঙ্গিদের দিল্লিতেই কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। সামনেই প্রজাতন্ত্র দিবস। ওই সময় কোনও জঙ্গি হামলার ছক ছিল কি না, ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পিত নাশকতার আগে, রেইকি করে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে জঙ্গি সংগঠনগুলো। সেই কাজেও দেবেন্দ্র জঙ্গিদের দিল্লি পৌঁছে দিতে যেতে পারেন বলে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের।

গত শনিবার, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের ওয়ান পো এলাকায় একটি গাড়ি আটকায় পুলিশ। ওই গাড়িতে তিন জঙ্গির সঙ্গে ছিলেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহ। সেটি দেবেন্দ্রর ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল।

পুলিশের জেরায় দাভিন্দর দাবি করেছে, হিজবুল মুজাহিদিন কম্যান্ডর সৈয়দ নভিদ মুস্তাক ও জঙ্গি রফি রাথারের সঙ্গে মিলে একটি আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা চালাচ্ছিল৷ এই প্রক্রিয়ায় আইনজীবী ইরফান শফি মিরও জড়িত রয়েছেন৷ মির হল প্রাক্তন আইনজীবী, অন্তত ৫ বার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছেন৷ জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, ‘দাভিন্দর আত্মসমর্পণের তত্ত্ব দিচ্ছে, কিন্তু আমরা তদন্ত করে দেখছি৷’

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একটি যৌথ বাহিনী এই ঘটনার তদন্ত করছে৷ তদন্তে উঠে এসেছে— এই প্রথম নয়, আগে আরও অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে জঙ্গিদের সাহায্য করেছেন দেবেন্দ্র। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বানিহাল টানেল পার করে জঙ্গিদের জম্মুতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। শনিবার ধরা পড়া তিন জনকে নিজের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার আগে, নিজের বাড়িতেই তিনি তিন জনকে রেখেছিলেন বলেও জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

তবে দেবেন্দ্র যাই দাবি করুন, তাঁকে আপাতত জঙ্গি হিসেবেই দেখছেন তদন্তকারীরা। সেই ভাবেই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘উনি যা করেছেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। সেই কারণেই তাঁকে জঙ্গি ধরে নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”