টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দেশের নানা প্রান্তে কাশ্মীরে নিহত জওয়ানদের উল্লেখ করে কার্যত নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রের শাসক দলের শীর্ষ নেতারা। পেশিশক্তির আস্ফালন ও বাগাড়ম্বরও চলছে। অথচ তথ্য বলছে, নরেন্দ্র মোদীর সরকারের আমলে কাশ্মীরে জওয়ানদের মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের নিজেরই পেশ করা হিসাবে কাশ্মীরে ২০১৪ থেকে ২০১৮’র মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলওয়ামায় ১৪ ফেব্রুয়ারির বিস্ফোরণ, পুলওয়ামাতেই সোমবার পুনরায় সঙ্ঘর্ষে জওয়ানদের মৃত্যুর হিসেব গণনায় রাখলে এই বৃদ্ধি ১০০শতাংশ। একই সঙ্গে মোদী সরকারের আমলে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধির পরিমাণ ১৭৬ শতাংশ।
লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে পেশ করা তথ্যে দেখা গেছে ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্বে জম্মু-কাশ্মীরে ১৭০৮টি সন্ত্রাসবাদী হামলা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪সালে এই সংখ্যা ছিল ২২২। সামান্য কমে ২০১৫-তে হয় ২০৮। ২০১৬ থেকে তা আবারও বাড়তে থাকে। ওই বছরে ৫৪ শতাংশ বেড়ে হয় ৩২২। ২০১৭-তে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৪২। লক্ষণীয় বৃদ্ধি ঘটেছে ২০১৮-তে। ৭৯শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হিংসার ঘটনা ঘটেছে ৬১৪। গত বছরে বস্তুত প্রতি মাসে গড়ে ৫১টি করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। বেড়েছে মৃত্যুর ঘটনা। সরকারি হিসাব বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮-র মধ্যে মোট ১৩১৫ জন সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১৩৮ জন সাধারণ মানুষ, ৩৩৯জন নিরাপত্তা জওয়ান, ৮৩৮ জন সন্ত্রাসবাদী। এই তথ্য ২০১৮-র নভেম্বর পর্যন্ত। এই সংখ্যা তারপরে আরও বেড়েছে।
২০১৪ থেকে ২০১৮-তে অসামরিক নাগরিকের মৃত্যু বেড়েছে ৩৫শতাংশ, নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুর পরিমাণ বেড়েছে ৯৩শতাংশ, সন্ত্রাসবাদীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ১৩৩শতাংশ। এই হিসাব সরকারি। স্বাধীন বেসরকারি সংস্থা এসএটিপি’র হিসাব, ২০১৪ থেকে ২০১৯’র ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২০৩ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ৩৯৭জন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। ৯১৩জন উগ্রপন্থী নিহত হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১৩। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষেত্রে ২০১৪সালে নিহত হয়েছিলেন ৪৭, ২০১৫-তে ৪১, ২০১৬-তে ৮৮, ২০১৭-তে ৮৩, ২০১৮-তে ৯৫, ২০১৯-এ এখনও পর্যন্ত ৪৮। তেমনই ২০১৮-তে ৮৬জন অসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যদিও কাশ্মীর পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই হিসাব, অসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি।
‘উগ্রপন্থী’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে অনেক অসামরিক নাগরিকদের। কাশ্মীরে রক্তপাত ও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থই হয়েছে মোদী সরকার। অস্ত্রের ওপরে অতি নির্ভরতা এবং রাজনৈতিক উদ্যোগের অভাবকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন বিরোধীরা। এরই সুযোগ নিচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা।