টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ‘ভারতীয় অর্থনীতি বর্তমানে বেকারত্বের আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে। সৌজন্যে বিজেপি সরকারের জিএসটি ও বিমুদ্রাকরণ।’ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে এই ভাবে ব্যাখ্যা করলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপে কাজের সুযোগ একেবারে তলানীতে। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তবুও হেলদোল নেই সরকারের। উল্টে বিভিন্ন শহর ও জায়গার নাম বদল করেই আনন্দে রয়েছেন তারা। জিএসটি, নোটবন্দি ইস্যুতে সরব কংগ্রেস। রাফায়েল নিয়ে যখন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার রাহুল গান্ধী তখন জিএসটি, নোট বন্দি নিয়ে মোদি-শাহ জুটিকে আক্রমণ শোনাচ্ছেন দলের বাকি নেতারা।

এদিন ইন্দোরে চিদাম্বরম বলেন, বিমুদ্রাকরণের জন্য চাকরির বাজার প্রায় ধ্বংসের মুখে। এই পরিস্থিতি শিক্ষিত যুবকদের কাছে অত্যন্ত বেদনার। কর্মহীন হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। এই অবস্থার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন বিজেপি সরকার ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল দেশে কালো টাকা ফেরানো হবে। বছরে দু লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রায় পাঁচ বছর শাসন করলেও একটি প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি কেন? এদিন সেই প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ও কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।’

এক দেশ এক কর। অভিন্ন কর কাঠামোর লক্ষ্যে ইউপি আমলে জিএসটি তৈরি হয়। কিন্তু বিরোধিতা করে তা চালু করতে দেয়নি তৎকালীন বিরোধী বিজেপি। যদিও ক্ষমতায় এসে সেই জিএসটি-রই প্রয়োগ করে বিজেপি। তবে চিদম্বরমের মতে, তাঁর অর্থমন্ত্রিত্বের সময় যে জেএসটি তৈরি হয়েছিল তার কাঠামো এখনকার থেকে পৃথক ছিল। জিএসটির কর কাঠামো থেকে বিভিন্ন বিভাগের সমালোচনা এদিন শোনা যায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর মুখে।

১৯ শে সরকার বদল হলে জিএসটি কাঠামোর রদ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। গোটা পরিস্থিতির জন্য গেরুয়া শিবিরকে দায়ী করে চিদাম্বরম বলেন, জিএসটি ও নোট বন্দি আসলে দেশবাসীর উপর কেন্দ্রের নির্যাতন। প্রাক্তনের সমালোচনাকে অবশ্য আমল দিতে রাজি নন বর্তমান অর্থমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন চোখ বন্ধ করে দেখা যায় না বলে দাবি করেছেন অরুণ জেটলি।