টিডিএন বাংলা ডেস্ক: খুশির ঈদেও কাটেনি ভয়। কাঁকিনাড়ায় মানুষের মন থেকে কিছুতেই উদ্ধেগ দূর হচ্ছে না। নতুন জামাকাপড় দূরের কথা, কেউ আধপোড়া ঘরে আর কেউ ভাঙা দোকানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটালেন।কাঁকিনাড়ার হিন্দু মুসলিম সব মানুষই মনপ্রাণে চাইছেন, বোমা গুলির অশান্তি যেন আর ফিরে না আসে।

বুধবার কাঁকিনাড়ার বারুইপাড়াতে নিজের পোড়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মহাম্মদ শাহিদের চোখদুটো ছল ছল করছিল। মাথার উপরে ছাদটুকু নেই।ঘরের মধ্যে আধপোড়া খাট পড়ে আছে। আশ্রয় থাকতেও অন্যেও আশ্রয়ে এখন দিন কাটাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, খুশির ঈদ এইভাবে আসবে ভাবতে পারিনি। আমাদের মনে আজ খুশি নেই। সকালে নামাজে এ গিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, আমরা যেন শান্তিতে সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারি।

তৃণমূল এবং বিজেপি’র এলাকা দখলের লড়াইকে ঘিরে যে অশান্তির পর্ব চলছে তসর জেরে কাঁকিনাড়া জুড়ে ঈদ উৎসবের আনন্দ একেবারে স্নান হয়ে গেছে। নতুন বস্তু গায়ে ওঠেনি বেশিরভাগ মানুষেরই। অন্যান্য বারের মতো আলোর রোশনাই নেই। আতঙ্কের রেশ এখনও কাটেনি। সকালে নামাজ শেষে মানুষ ঘরমুখো থেকেছে। খুশির ঈদকে ঘিরে বাচ্ছাদের হইনেই। মহিলাদের হাতে মেহেন্দী পড়ার ভিড় নেই। শুনশান রাস্তাঘাট। চলছে রর্যাফেল টহলদারি। এখনও অনেক মানুষ ঘরছাড়া। অনেক মানুষ এবার ঈদের কেনাকাটা করতে পারেননি। উৎসবের স্বাভাবিক ছন্দ তাই জেগে ওঠেনি কাঁকিনাড়ায়।

কাঁকিনাড়ার বাড়ুইপাড়াতেই চায়ের দোকানের মালিক জ্ঞান প্রকাশ দাস তাঁর ভাঙা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, তৃণমূল আমাদের সব শেষ করে দিল। আমার বাড়ি দোকান সব ভেঙে দিয়েছে। আমারা হিন্দু মুসলিম একসাথে মিলেমিশে এখানে কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস করছি। এরা সব নষ্ট করে দিল।

কাছাড়ি রোডে গিফট আইটেমের দোকানদার মহাম্মদ আসলাম বললেন, আমরা শেষ হয়ে গেছি। খুশির ঈদ ঘিরে প্রচুর জিনিস কেনাকাটা হয়। ব্যাবসা খুব ভালো হয়। আবার আমার দোকান ভেঙ্গে লুট করে নিয়ে গেছে। এখনও দোকান ঠিকমতো খুলতে পারিনি। দোকান সাজাতে অনেক টাকা লাগবে। এবারের উৎসবে আমাদের আনন্দ করার ফুরসত কোথায়!

আঠারো দিন ধরে কাজে যাচ্ছেন না মহাম্মদ চাঁদ। কাঁকিনাড়া জুট মিলের স্পিনিং বিভাগে কাজ করেন তিনি। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, মা আছে। তাছাড়া স্ত্রী, দুই ছেলে মেয়ে ও ভাইপো নিয়ে কাঁকিনাড়া টিনা গোডাউন এলাকায় থাকেন।পরনে ছেঁড়া লুঙ্গিটা দেখিয়ে বললেন,কাজে যেতে পারছিনা। কীভাবে ঈদ পালন করব! প্রতিবছর ঈদের আগের রাতের থেকে বাড়িতে রান্নাবান্না হতো সবাই একসাথে মিলেমিশে খুশির ঈদ পালন করতাম। এবারে ঈদের দিনে সকাল দশটায় রান্না চাপিয়েছি।

কোনোমতে ঈদ পালন করছি। বাচ্চাদের কিছু কিনে দিতে পারিনি। কবে কাজে যেতে পারব জানি না। ভাবছি এখন থেকে চলে যাবো। এত বোমা গুলি জীবনে দেখিনি।

প্রাণে বেঁচে আছি এটাই অনেক। মহাম্মদ চাঁদের বৃদ্ধ পিতা হায়দার আলি বললেন,আমার এত বয়স হল, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি।

সিপিএই (এম) নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি সহ পার্টি ও যুব নেতৃবৃন্দ বুধবার ঈদের দিনে কাঁকিনাড়া ও জগদ্দলের বিভিন্ন স্থানে যান।কাঁকিনাড়া বাড়ুইপাড়া অঞ্চলের পুরো এলাকায় ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলে তাঁরা। সব মানুষের ঐক্য ও সম্প্রতি রক্ষার জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতেও অনুরোধ করছে তাঁরা। সূত্র:গণশক্তি