টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার সানাউল্লাহ প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক হওয়ার শর্তেও নাম বিভাটে ভুল করে একটু বিদেশি তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। এ কথা পুলিশ এবং সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও তাকে রমযান মাসে এমনকি খুশির ঈদেও বন্দিদশায় কাটাতে হল গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে। গৌহাটি হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী রশিদ আহমেদ চৈধুরী জানান, বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছিল সানাউল্লাহ সাহেবকে মুক্তি দেবার জন্য।কিন্ত বিচারপতি তাতে রাজি হননি। আজ শুক্রবার মামলাটি হাইকোর্টে উঠবে। হাফিজ রশিদ আহমেদের অভিযোগ, অসমে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ঘোষিত বিদেশির মধ্যে বেশিরভাগই ভারতীয় নাগরিক। আর তাদের খোঁজার নামে পুলিশ যাকে তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। হয়রানি করছে এবং প্রকৃত নাগরিকদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠেলে দিচ্ছে। বলা বাহুল্য, এদের প্রত্যেকেই বাঙলী হিন্দু ও মুসলিম। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি জামসের আলির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল নিম্ন অসমের চিরাং জেলার বিজনী সহ কয়েকটি জায়গায় ঘুরে জানান, শুধু বিজনীতেই জানা গেল রবীন্দ্র মল্লিক, সাধনা সরকার, গোপাল মন্ডল, বংশীধর রাজবংশী, মধুমালা মন্ডল প্রভৃতি নির্দোষ ভারতীয় নাগরিকদের, যাঁরা ১৯৭১ সালের আগে থেকে অসমে বসবাস করে আসছেন, তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। এদের প্রত্যেকের পিতা-মাতার নাম ৬৬ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। আবার এমনও রয়েছেন, যাঁদের পরিবার স্বাধীনতার আগে থেকে অসমে বসবাস করে আসছেন, তাঁদেরও ডিটেনশন ক্যাম্পে বছরের পর বছর বন্দি করে রাখা হয়েছে। এখন এমন অভিযোগ সোনা যাচ্ছে, পুলিশ যাদের খুঁজতে আসে, তাদের কেউ বেঁচে নেই। চাকরি বাঁচানোর জন্য কোনও নিরীহ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে ধরে নিয়ে যায়। দিনের পর দিন এইভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও অসম সরকারের কোনও হেলদোল নেই। যদিও প্রাক্তন সেনা অফিসার সানাউল্লাহর নামে যিনি বিদেশি অভিযোগ দাখিল করেছিলেন, তাঁর নামেও মামলা শুরু হয়েছে।