টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছিলেন ঘোষণা দিয়েই। সে সময় তিনি ছিলেন রাজস্থানের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। তিন বছর আগে ধর্ম পরিবর্তন করেন এই সরকারি আমলা। নাম ছিল উমরাও সায়েদিয়া।ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে নাম পরিবর্তন করেন উমরাও খান। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই সরকারি অফিসারের ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন তার ন্যায্য পদোন্নতি না হলে তিনি হিন্দু ধর্ম পরিত্যাগ করে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করবেন। সরকারি চাকরি করলেও তাঁর ক্ষোভ ছিল যে , যেহেতু তিনি দলিত সম্প্রদায়ের সেইজন্য তাঁর পদোন্নতি আটকে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর চিফ সেক্রেটারি হওয়ার কথা পদোন্নতির নিয়মানুযায়ী।

মুখ্য সচিব না হতে পারার জন্য ক্ষোভে তিনি চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন অবসরের মাত্র ছ ‘মাস আগে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন। দলিতদের প্রতি উচ্চবর্ণের আচরণ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। প্রাক্তন এই আইএএস অফিসার আবার লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টির। মঙ্গলবার জয়পুরে নমিনেশন পেপার দাখিল করার সময় নিজের ধর্ম পরিচয় লিখেছেন হিন্দু এবং সেই পুরোনো নাম উমরাও সালেদিয়া নামেই ভোটে প্রার্থী হতে চলেছেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর পরই ইসলামী অনুশাসনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। নিয়মিত নামাজ রোযা অনুশীলন করতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ এমন কি হল যে, নমিনেশন দাখিল করার সময় আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে হলো তাঁকে ? বুধবার সাংবাদিকরা তাঁর কাছে জানতে চান এই ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে।

বিএসসি প্রার্থী বলেন ,আমি তিন বছর যাবৎ চেষ্টা করছি কেন্দ্রীয় সরকার আমার নাম পরিবর্তন নিয়ে গেজেট নোটিফিকেশন করুক। কিন্তু সেই অনুমতি আমি এখনও পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে আমার পুরনো নাম ব্যবহার করতে হচ্ছে নমিনেশনের সময়। আমি বহুবার সংশ্লিষ্ট অফিসারদের কাছে চিঠি লিখেছি কিন্তু তার কোনও উত্তর দেননি। আমি ভোটে দাঁড়াতে চাইছি দলিতদের অধিকার রক্ষা নিয়ে। আমার সিনিয়ারিটি বিচার করে মুখ্যসচিবের পদ পাওয়া উচিত ছিল সেটা করেননি সরকার।

তিনি বলেন,তবে আমি আমার ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে এখনও অবিচল রয়েছি এবং নিজেকে একজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী বলে মনে করি।ইসলাম ধর্মের প্রতি আমার আস্থা অটুট রয়েছে।