টিডিএন বাংলা ডেস্ক : আর্থিক অবস্থার নিরিখে সরকারের সংরক্ষণ প্রদানের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চারের আহবান করলো পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ই আবুবকর বলেন, “আর্থিকভাবে দুর্বল উচ্চ বর্ণের জন্য ১০% রিজার্ভেশন দেওয়ার কেন্দ্র সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সেটা প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্রের ধারণাকে খতম করবে। সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে সেটা হবে বড় বাধ। সংবিধানের ১৫ ও ১৬ নম্বর ধারাতে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীকে সংরক্ষণের  সুবিধা প্রদান করতে হবে। ফলে কেন্দ্র সরকার আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণকে সম্ভব করার জন্য সংবিধান সংশোধন করার যে চেষ্টা করছে সেটা সংবিধান প্রদত্ত সংরক্ষণ আইন বিরোধী। বিভিন্ন সরকারী পরিষেবাতে কোটা সংরক্ষণ দেওয়া দারিদ্রতা বিরোধী কর্মসূচীর অংশ নয়। সেটা এই জন্য নিয়ে আসা হয়েছে যাতে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা দুর্বল শ্রেণীর পরিকল্পিত সরকারি বঞ্চনাকে শেষ করা যায়। যে বঞ্চনা তাদের জাতি ও বর্ণের কারণে চলে আসছিল এবং সরকারী ব্যবস্থাতে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়। জাতি ও গোত্রের বিষয়ে ভাবলে দেখা যায় যে, মানুষের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা সব সময় একই রকম থাকে না। অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ফলে আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া উচিৎ নয়।” তিনি আরো জানান, আমাদের দেশে দারিদ্রতা অনেকাংশে জাত পাতের কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ ইন্দ্রাণী সহনী মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯২ সালে যে ফায়সালা দিয়েছিল তারও বিপক্ষে, যে রায়ে আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়ার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারের দায়িত্ব হল জাত পাতের ধারণার উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্রতা দূর করবে। সেটা বর্তমান সমুদায়িক কোটা ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন না করেই করা উচিৎ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটারদের নিজেদের দিকে আকর্ষিত করার জন্য পাঁচ বছর নষ্ট করার পর বিজেপি সরকার সংরক্ষণ বিরোধী দল ও প্রগতিশীল সমাজকে সন্তুষ্ট করার জন্য এমন পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সকল শ্রেণীর বঞ্চিত ও উপেক্ষিত জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।